ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে আসছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী। ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন না হলে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ঢাকায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মাকে বেলজিয়ামে বদলি করা হতে পারে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েই দীনেশ ত্রিবেদী এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বর্তমানে কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার বিদায় এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুর দিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা যায়। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, দু’দেশের সম্পর্ক পুনরায় মসৃণ করার উদ্যোগ নিয়েছে উভয় পক্ষই। এই কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামতে দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
দীনেশ ত্রিবেদীর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তিনি অত্যন্ত সাবলীল বাংলায় কথা বলতে পারেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রিধারী এই রাজনীতিক দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত। শুধু রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল চর্চাই নয়, তিনি একজন দক্ষ সেতারবাদকও। তার এই সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছে কেন্দ্র।

পারিবারিক জীবনে দীনেশ গুজরাতি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর কনিষ্ঠ সন্তান। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা শেষে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন তিনি। আশির দশকে কংগ্রেসে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। এরপর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জনতা দলের হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন।
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে দীনেশ সেই দলে যোগ দেন এবং প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী এবং ২০১১ সালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তবে রেলভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে মমতার সাথে মতবিরোধের জেরে তাকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়ার পর দলের সাথে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২১ সালের ৬ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। সবকিছু ঠিক থাকলে খুব শিগগিরই তিনি এক বাংলা থেকে আরেক বাংলায় এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পাড়ি জমাবেন।

অনলাইন ডেস্ক 


















