পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদক সেবন ও বিক্রি, চাঁদাবাজি এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি কিশোর ও তরুণদের দল বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোপালনগর গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির পাশাপাশি নানা ধরনের অপকর্ম চালানো হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
কেউ এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে দলবদ্ধভাবে হামলা, মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান মজনুর বাসার পাশে মাদক সেবন ও বিক্রির প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তাকে এবং তার আরও দুই ভাইকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মিজানুর রহমানকে মারধরের সময় গোপালনগর গ্রামের কয়েকজন কিশোর সেখানে উপস্থিত ছিল। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ফেরদৌস (২০)সজল (১৬), নাঈম হোসেন (১৮), নিহাদ আহমেদ (১৭), জাকারিয়া (১৬), আতিকুল (১৭), হাসেম (১৬), ও সাগর (১৭)-এর নাম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পর তিনি গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর থানায় মামলা করতে গেলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা তার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী গোপালনগর এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক 


















