ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রিলবিট রেখে সেলাইয়ের সংবাদ ‘তথ্য বিভ্রাট’: সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদুলের প্রতিবাদ

blank

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট ডা. জাহেদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ‘তথ্য বিভ্রাট, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৮টায় গুরুদাসপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ডা. জাহেদুল ইসলাম বলেন, গত ১৯ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকে ‘নারীর ভাঙা পায়ের ভেতর ড্রিল মেশিনের ফলা রেখেই সেলাই দিলেন ডাক্তার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পর স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমেও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদে তথ্য বিভ্রাট, অতিরঞ্জন এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত, পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, গত ৩ জুন রাতে বনপাড়ার তাঁর ক্লিনিকে ৬০ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগমের ভাঙা পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। তবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তাঁর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং এর জন্য চিকিৎসককে দায়ী করা যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. জাহেদুল আরও বলেন, সংক্রমণের পরও রোগী তাঁর তত্ত্বাবধানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে তাঁকে না জানিয়ে রোগীর স্বজনরা ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন। ফলে পরবর্তী চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কোনো দায় নেই।

তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ড্রিলবিটের একটি ক্ষুদ্র অংশ হাড়ের ভেতরে ভেঙে যায়। রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে সেটি অপসারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা করা হয়নি। বিষয়টি রোগীর স্বজনদের জানানো হয়েছিল এবং প্লেট অপসারণের সময় ড্রিলবিটের অংশটিও বের করে দেওয়া হবে বলে তাদের অবহিত করা হয়।

সংবাদে তাঁকে ‘অপেশাদার চিকিৎসক’, ‘চিকিৎসায় অনীহা’, ‘ক্ষতস্থানে পচন’, ‘দফায় দফায় অস্ত্রোপচার’ এবং ‘পা কেটে ফেলার উপক্রম’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মুনজুরুল আলম এবং মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক রাশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? আলোচনায় ফখরুল, মোশাররফ, মঈন, নজরুল ও নাসিমুল

ড্রিলবিট রেখে সেলাইয়ের সংবাদ ‘তথ্য বিভ্রাট’: সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদুলের প্রতিবাদ

প্রকাশের সময় : ১০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
blank

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট ডা. জাহেদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত একটি সংবাদকে ‘তথ্য বিভ্রাট, অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৮টায় গুরুদাসপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ডা. জাহেদুল ইসলাম বলেন, গত ১৯ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাকে ‘নারীর ভাঙা পায়ের ভেতর ড্রিল মেশিনের ফলা রেখেই সেলাই দিলেন ডাক্তার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পর স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমেও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদে তথ্য বিভ্রাট, অতিরঞ্জন এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত, পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি জানান, গত ৩ জুন রাতে বনপাড়ার তাঁর ক্লিনিকে ৬০ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগমের ভাঙা পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। তবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তাঁর ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং এর জন্য চিকিৎসককে দায়ী করা যায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডা. জাহেদুল আরও বলেন, সংক্রমণের পরও রোগী তাঁর তত্ত্বাবধানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরে তাঁকে না জানিয়ে রোগীর স্বজনরা ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন। ফলে পরবর্তী চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কোনো দায় নেই।

তিনি দাবি করেন, অস্ত্রোপচারের সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ড্রিলবিটের একটি ক্ষুদ্র অংশ হাড়ের ভেতরে ভেঙে যায়। রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে সেটি অপসারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা করা হয়নি। বিষয়টি রোগীর স্বজনদের জানানো হয়েছিল এবং প্লেট অপসারণের সময় ড্রিলবিটের অংশটিও বের করে দেওয়া হবে বলে তাদের অবহিত করা হয়।

সংবাদে তাঁকে ‘অপেশাদার চিকিৎসক’, ‘চিকিৎসায় অনীহা’, ‘ক্ষতস্থানে পচন’, ‘দফায় দফায় অস্ত্রোপচার’ এবং ‘পা কেটে ফেলার উপক্রম’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মুনজুরুল আলম এবং মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক রাশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।