ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী-২ আসনে স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ডা. জাহাঙ্গীরের বড় পরিকল্পনা

blank

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। 

 

এলাকায় ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর উন্নয়ন ভাবনা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরেন।

 

ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, নির্বাচিত হলে তিনি রাজশাহীর দীর্ঘদিনের চিহ্নিত সমস্যা— বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে অগ্রাধিকার দেবেন। তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংকট নিরসন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এ কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়। এই সংকট দূর করতে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা তিন হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

 

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে মানসম্মত ওষুধ ও পথ্য নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে, একটি পূর্ণাঙ্গ সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং রাজশাহীর ডেন্টাল ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সিল্ক সিটি’ ও ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ হিসেবে পরিচিত হলেও রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের ঘাটতি প্রকট। এই সমস্যা সমাধানে তিনি ইপিজেড স্থাপন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি হাইটেক পার্ককে কার্যকর করা, মৃতপ্রায় বিসিক শিল্পনগরী ও ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার কথাও জানান।

blank

পদ্মা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে সেচ ব্যবস্থার আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, দলের সকল নেতা-কর্মীকে আইন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পক্ষে। দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগের কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবার যেন ‘ডামি’ নির্বাচন না হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

 

উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ (মহানগরী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

 

রাজশাহী-২ আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই আসন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক ও সমাজসেবীকে প্রার্থী করাকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

blank

বড়াইগ্রামে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে ডাকাতি: ১৩ ডাকাত গ্রেপ্তার, কোটি টাকার সরঞ্জাম উদ্ধার

রাজশাহী-২ আসনে স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিয়ে ডা. জাহাঙ্গীরের বড় পরিকল্পনা

প্রকাশের সময় : ০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
blank

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। 

 

এলাকায় ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর উন্নয়ন ভাবনা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরেন।

 

ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, নির্বাচিত হলে তিনি রাজশাহীর দীর্ঘদিনের চিহ্নিত সমস্যা— বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে অগ্রাধিকার দেবেন। তাঁর অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যা সংকট নিরসন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১২০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এ কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়। এই সংকট দূর করতে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা তিন হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

 

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেড সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে মানসম্মত ওষুধ ও পথ্য নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে, একটি পূর্ণাঙ্গ সদর হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং রাজশাহীর ডেন্টাল ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সিল্ক সিটি’ ও ‘ম্যাঙ্গো সিটি’ হিসেবে পরিচিত হলেও রাজশাহীতে কর্মসংস্থানের ঘাটতি প্রকট। এই সমস্যা সমাধানে তিনি ইপিজেড স্থাপন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি হাইটেক পার্ককে কার্যকর করা, মৃতপ্রায় বিসিক শিল্পনগরী ও ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার কথাও জানান।

blank

পদ্মা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে সেচ ব্যবস্থার আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, দলের সকল নেতা-কর্মীকে আইন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্যের পক্ষে। দেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগের কয়েকটি নির্বাচনের মতো এবার যেন ‘ডামি’ নির্বাচন না হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

 

উল্লেখ্য, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ (মহানগরী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

 

রাজশাহী-২ আসনটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই আসন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক ও সমাজসেবীকে প্রার্থী করাকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।