ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

blank

আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে দিনটি এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৬৬ সালের এই দিনে ছয় দফা দাবির সমর্থনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের মুখে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন।

শহীদদের আত্মত্যাগ ছয় দফা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। আন্দোলনের দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সর্বস্তরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচি পরিণত হয় বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক মুক্তির সনদে।

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো নেতারা। তবে সেই আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো।

ছয় দফার অন্যতম দাবিগুলোর মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা, পৃথক মুদ্রা বা কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা চালু করা, কর আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব সংরক্ষণ এবং পূর্ব বাংলার নিরাপত্তা জোরদারে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন।

এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৭ জুনের হরতালে ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে ওঠে। কিন্তু আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও ইপিআর গুলি চালালে ১১ জন আন্দোলনকারী শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধিকার আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের পথকে সুগম করে।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছয় দফা আন্দোলন দমনে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে কারাবন্দি করা হয় এবং পরবর্তীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। তবে আন্দোলন থেমে থাকেনি; বরং ছাত্রসমাজ ছয় দফাকে ১১ দফায় রূপান্তর করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়, যা গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে।

ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ছয় দফাই ছিল বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপরেখা।

জনপ্রিয় খবর
blank

ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক নির্বাচিত হলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস আজ

প্রকাশের সময় : ২ ঘন্টা আগে
blank

আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে দিনটি এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৬৬ সালের এই দিনে ছয় দফা দাবির সমর্থনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নের মুখে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন।

শহীদদের আত্মত্যাগ ছয় দফা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। আন্দোলনের দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাংলার সর্বস্তরে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয় দফা কর্মসূচি পরিণত হয় বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক মুক্তির সনদে।

তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য, শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো নেতারা। তবে সেই আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটানো।

ছয় দফার অন্যতম দাবিগুলোর মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে ন্যস্ত করা, পৃথক মুদ্রা বা কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থা চালু করা, কর আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে দেওয়া, বৈদেশিক মুদ্রার পৃথক হিসাব সংরক্ষণ এবং পূর্ব বাংলার নিরাপত্তা জোরদারে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন।

এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৭ জুনের হরতালে ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে ওঠে। কিন্তু আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও ইপিআর গুলি চালালে ১১ জন আন্দোলনকারী শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, স্বাধিকার আন্দোলন এবং শেষ পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের পথকে সুগম করে।

আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছয় দফা আন্দোলন দমনে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে কারাবন্দি করা হয় এবং পরবর্তীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। তবে আন্দোলন থেমে থাকেনি; বরং ছাত্রসমাজ ছয় দফাকে ১১ দফায় রূপান্তর করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়, যা গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি করে।

ছয় দশক পেরিয়ে গেলেও ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ছয় দফাই ছিল বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক রূপরেখা।