নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে পৃথকভাবে এই নোটিশ দেওয়া হয়।
দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭ (গ) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে সশরীর বা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (আদালত নম্বর–২) নয়ন বিশ্বাস কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দুই প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পান। কলারোয়ার তুলসীডাঙ্গা, হেলাতলা, গোপীনাথপুর মোড়, মুরারিকাটিসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াত প্রার্থী ইজ্জত উল্লাহর নির্বাচনী ফেস্টুন গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে সাঁটানো অবস্থায় দেখা যায়। পাশাপাশি ৩০ মাইল মোড়সহ কয়েকটি স্থানে রঙিন ছবি সংবলিত ব্যানারও টাঙানো ছিল।
অন্যদিকে কলারোয়ার ব্রজবাকসা হাফিজিয়া মাদ্রাসা, শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রি কলেজের সামনে ও অন্যান্য স্থানে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলামের নির্বাচনী ফেস্টুন ও ব্যানার যত্রতত্র গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি এবং যানবাহনে সাঁটানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭ (গ) স্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামীকাল দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে সশরীর বা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর চাচাতো ভাই আবদুস সাত্তার ফোন রিসিভ করে জানান, হাবিবুল ইসলাম বর্তমানে গণসংযোগে রয়েছেন এবং এখন কথা বলতে পারবেন না। নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি নোটিশ পাওয়া গেছে, তবে অভিযোগের বিস্তারিত এখনো জানা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে যথাসময়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।

সবুজ ইসলাম 


















