রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জনকারী নাটোরের গুরুদাসপুরের কৃতী শিক্ষার্থী মো. সাহাদৎ হোসেনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র ভ্যানচালকের সন্তান সাহাদতের এই অসামান্য সাফল্যে গর্বিত পুরো এলাকাবাসী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ-২০০৪-এর উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাহাদৎ হোসেন খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের চরপিপলা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক মো. মিরাজুল ইসলামের ছোট ছেলে। ভবিষ্যতে একজন সফল আইনজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। তেলাওয়াত করেন খুবজীপুর দবির উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুর রহমান।
খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আলহাজ্ব মো. সিরাজুল ইসলাম শিশির।
স্বাগত বক্তব্য দেন খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ-২০২৪-এর শিক্ষার্থী ও জনতা ব্যাংক পিএলসির সিনিয়র অফিসার মো. মোবারক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম । আরো বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মোশাররফ হোসেন ও মো. মহসিন আলী, চরপিপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এবং ফায়ার ইন্সপেক্টর মইনুর রহমান।
বক্তারা বলেন, সাহাদৎ হোসেনের এই অসামান্য সাফল্য শুধু তার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা গুরুদাসপুর ও নাটোর জেলার জন্য নয়, বরং পুরো দেশের জন্য গৌরবের। কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, সাহাদৎ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তারা আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান করা হলে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত হবে। পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পড়াশোনা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রেদোয়ান হোসেন, শ্রীপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম আজাদ, বিলশা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. আলতাফ হোসেন, খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহাবুদ্দিন, আব্দুল বাসেদ ও সুদীপ্ত রিপন, শ্রীপুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সুবীর আলী এবং খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সাঈদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কৃতী শিক্ষার্থী সাহাদৎ হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। একই সঙ্গে তার পিতাকেও ফুলেল শুভেচ্ছা ও নগদ অর্থ দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ-২০০৪-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মো. নবীন রাসেল।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম এবং খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি ব্যাচ-২০০৪-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও মশিন্দা শিকারপাড়া মডেল ফাযিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. শাহ আলম।
প্রসঙ্গত, দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান সাহাদৎ হোসেনের স্বপ্ন ছিল এসএসসি পাস করে দেশের অন্যতম খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি স্থানীয় খুবজীপুর মোজাম্মেল হক কলেজে ভর্তি হন। সাহাদতের রাজশাহী কলেজে পড়ার আগ্রহের কথা জানতে পেরে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে সাহাদৎ রাজশাহী কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ইউএনও। বর্তমানে সাহাদৎ রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত।

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 


















