ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই : রাতভর অভিযানে ৩ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা

blank

নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে একটি ফাঁকা সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রি করে বগুড়া থেকে পিকআপযোগে ফিরছিলেন চালক সোহেল রানা ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া। পথে পিকআপটি বিকল হয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চালক সোহেলকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনুকে ব্যাপক মারধর করে মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে রাতভর অভিযান চালায়।

অভিযানে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুন্না (২৪) নামের একজনকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

blank

মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ঈশ্বরলক্ষীপুর গ্রামের রবিন (২৫) নামের আরেকজনকে মহাদেবপুরে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাকারী ছিলেন চালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিনের ভূমিকা ছিল প্রধান। তাঁরা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

নাটোরে আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরীর ক্যাম্প ফায়ার অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই : রাতভর অভিযানে ৩ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা

প্রকাশের সময় : ৪৩ মিনিট আগে
blank

নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে একটি ফাঁকা সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রি করে বগুড়া থেকে পিকআপযোগে ফিরছিলেন চালক সোহেল রানা ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া। পথে পিকআপটি বিকল হয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চালক সোহেলকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনুকে ব্যাপক মারধর করে মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে রাতভর অভিযান চালায়।

অভিযানে প্রথমে মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মুন্না (২৪) নামের একজনকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

blank

মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ঈশ্বরলক্ষীপুর গ্রামের রবিন (২৫) নামের আরেকজনকে মহাদেবপুরে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাকারী ছিলেন চালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিনের ভূমিকা ছিল প্রধান। তাঁরা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি দমনে নওগাঁ জেলা পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।