ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রতিবাদে এবং সদর উপজেলার অখণ্ডতা রক্ষার দাবিতে ঘোষিত রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ কর্মসূচি ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছেন আন্দোলনকারীরা। রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের পক্ষ থেকে কার্যকর সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্দোলনকারীদের অবরোধ প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। এতে আন্দোলনকারীরা সম্মতি দিয়েছেন। সংকট নিরসনে পাঁচ সদস্যের আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদলকে নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে স্থানীয় সংসদ সদস্যও উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে রোববার সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় জড়ো হয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে অবস্থান নিয়ে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন তারা। পাশাপাশি সুলতানপুর-আগরতলা আঞ্চলিক সড়কেও যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অবরোধের ফলে রেলপথের উভয় পাশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়। এতে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে। এছাড়া সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এবং কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেসের যাত্রা বিঘ্নিত হয়। ফলে শত শত যাত্রীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পৃথক করে সম্প্রতি ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত ইউনিয়নটিকে পার্শ্ববর্তী আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে সদর উপজেলা থেকে গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন করে আখাউড়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার সরকারি সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এর আগেও একাধিকবার আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকাবাসীর মধ্যে। সদর উপজেলার ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা, বিভক্তির সিদ্ধান্ত প্রতিহত করা এবং বাসুদেব ইউনিয়নকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে শেষ পর্যন্ত রেলপথ ও সড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করেন তারা। তবে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আশ্বাসে আপাতত ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছে অবরোধ কর্মসূচি।

অনলাইন ডেস্ক 


















