ভোটের মাঠে রেকর্ড গড়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে আসা আফরোজা খানম রিতা এবার রাজপথের পদযাত্রায় নতুন করে নজর কেড়েছেন। নির্বাচনি সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রথমে বিমানমন্ত্রী এবং পরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া এই রাজনীতিক মন্ত্রিত্বের আনুষ্ঠানিকতা ছেড়ে দলীয় পতাকা হাতে হাজারো নেতাকর্মীর সঙ্গে হেঁটেছেন রাজধানীর রাজপথে। অতিক্রম করেছেন প্রায় সাত কিলোমিটার পথ।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও রাজপথের রাজনীতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা ধরে রেখেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে থেকে শুরু হওয়া জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে মানিকগঞ্জ থেকে আসা কয়েক হাজার নেতাকর্মীর নেতৃত্ব দেন তিনি। হাতে ছিল দলীয় পতাকা। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও মোড় অতিক্রম করে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি।
দীর্ঘ পদযাত্রায় মিছিলের সামনের সারিতে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একই কাতারে হাঁটতে দেখা যায় তাকে। মন্ত্রিত্বের প্রটোকল কিংবা গাড়িবহরের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে তার এই পথচলা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন কিংবা পদ-পদবি বদলের সঙ্গে অনেক নেতার চলাফেরার ধরনেও পরিবর্তন আসে। তবে রিতার সাম্প্রতিক পদযাত্রায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নিজেকে আলাদা রাখেননি তিনি। বরং দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে তাদের সঙ্গে একই কাতারে হেঁটেছেন। অনেকের কাছে তার এই অংশগ্রহণ রাজনৈতিক কর্মীসত্তার ধারাবাহিক প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগেও বিরোধী দলে থাকাকালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজধানীর রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আফরোজা খানম রিতা। দলীয় পতাকা হাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন মোড় অতিক্রম করে সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তখন তিনি ছিলেন আন্দোলনরত দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, আর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী। সময় ও রাজনৈতিক অবস্থান বদলালেও রাজপথের কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের ধরনে বড় পরিবর্তন আসেনি। এই ধারাবাহিকতাই তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ (সদর-সাটুরিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আফরোজা খানম রিতা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটসমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পান ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ১০৩। আসনের ১৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৫০টিতে সর্বোচ্চ ভোট পান তিনি। নির্বাচনে সাত নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট ও ব্যবধানে জয়ের কৃতিত্বও অর্জন করেন রিতা। সরাসরি নির্বাচনে নারী রাজনীতিকদের জয়ের ব্যবধানের হিসাবেও তার অবস্থান তৃতীয় বলে আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতার পর এই আসনের প্রথম নারী সংসদ সদস্যও তিনি।
সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খানম রিতার রাজনীতিতে আগমন পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মধ্য দিয়ে। তবে সময়ের সঙ্গে নিজস্ব সাংগঠনিক অবস্থান তৈরি করে মানিকগঞ্জে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছেছেন তিনি। জেলার সভা-সমাবেশ, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে।
রাজপথের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়ে রোববার সকালে যুগান্তরকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘মন্ত্রিত্ব আমার দায়িত্ব, আর রাজপথ আমার রাজনৈতিক শিকড়। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্কের পরিবর্তন হবে না।’
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি তার কাছে শুধু ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির বিষয় নয়; বরং মানুষের পাশে থাকা, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পথচলা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার মাধ্যম। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথ তাদের সাহস ও প্রেরণার জায়গা ছিল। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকলেও সেই রাজপথ, দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মানিকগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় তার শক্তি ও অনুপ্রেরণা। তাদের সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে পারা তার জন্য আনন্দের ও গর্বের।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিত্ব একটি বড় দায়িত্ব। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

অনলাইন ডেস্ক 


















