আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। এর বিপরীতে বর্তমানে দেশে চিকিৎসক রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৫৯৮ জন।
তবে সরকারি হাসপাতালগুলোর অনুমোদিত পদের হিসাবেও রয়েছে বড় ঘাটতি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের জন্য অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন। অর্থাৎ ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে চিকিৎসকের প্রয়োজন ও ঘাটতির বিষয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজন নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনবলসংক্রান্ত মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ডে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। সে হিসাবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন।
তবে দেশের মোট চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় বলেও সংসদে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
সরকারি হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করে জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন ডেস্ক 

















