ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত সেবায় চালু হচ্ছে ৬০ পোস্ট-ক্র্যাশ অ্যাম্বুলেন্স

blank

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৬০টি ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স অ্যাম্বুলেন্স’ উদ্বোধন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাড়া দিতে হাইওয়ে পুলিশের কাছে ৮০টি মোটরসাইকেল হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় এ সেবা চালু করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কের তিনটি করিডরে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।

করিডরগুলো হলো জয়দেবপুর-রাজশাহী, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এবং হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক। প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু থাকবে।

সেবাটি পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর অপারেটর ঘটনাস্থল ও আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরপর নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে বার্তা পাঠানো হবে।

অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করবেন। নির্বাচিত করিডরে প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার অন্তর দুজন করে স্বেচ্ছাসেবককে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও দেওয়া হবে।

প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধিত তিনজন স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে কল সেন্টারের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সড়ক পরিবহন, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ বাজার সরানো, সড়কের সংযোগস্থল ও মার্কিং উন্নত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনগণের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।

জনপ্রিয় খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত সেবায় চালু হচ্ছে ৬০ পোস্ট-ক্র্যাশ অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ৬০টি ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স অ্যাম্বুলেন্স’ উদ্বোধন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাড়া দিতে হাইওয়ে পুলিশের কাছে ৮০টি মোটরসাইকেল হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় এ সেবা চালু করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কের তিনটি করিডরে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।

করিডরগুলো হলো জয়দেবপুর-রাজশাহী, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এবং হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর মহাসড়ক। প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা এ সেবা চালু থাকবে।

সেবাটি পরিচালিত হবে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর অপারেটর ঘটনাস্থল ও আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এরপর নিকটবর্তী অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে বার্তা পাঠানো হবে।

অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগে স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করবেন। নির্বাচিত করিডরে প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার অন্তর দুজন করে স্বেচ্ছাসেবককে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও দেওয়া হবে।

প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধিত তিনজন স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে কল সেন্টারের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সড়ক পরিবহন, স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি চালকদের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ বাজার সরানো, সড়কের সংযোগস্থল ও মার্কিং উন্নত করা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টার সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনগণের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।