ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চার খুন: শার্ট থেকে ধর্মীয় পরিচয়, তদন্ত ঘিরে নানা প্রশ্ন

blank

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, একই ধরনের শার্ট একাধিক ব্যক্তি পরতেই পারেন।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযানের খবর পেয়ে গ্রেপ্তারদের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। সিআইডির ইনচার্জ, মরদেহ উদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়া উপ-কমিশনার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা—তিনজনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনও একই ধর্মের অনুসারী।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি কেবলই কাকতালীয়। কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুল হলে সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তদন্তের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি জানান, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় খবর
blank

নন্দন বিলে জমজমাট নৌকাবাইচ

রংপুরে চার খুন: শার্ট থেকে ধর্মীয় পরিচয়, তদন্ত ঘিরে নানা প্রশ্ন

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনের একজনের পরনের শার্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরদেহ উদ্ধারের দিন একই ধরনের শার্ট পরা অবস্থায় পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে মরদেহ উদ্ধারের সময় মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে ওই ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, একই ধরনের শার্ট একাধিক ব্যক্তি পরতেই পারেন।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর তারা ওই ভবনে বসে ইয়াবা সেবন করেন।

পুলিশ জানায়, অভিযানের খবর পেয়ে গ্রেপ্তারদের একজন পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। সিআইডির ইনচার্জ, মরদেহ উদ্ধারে নেতৃত্ব দেওয়া উপ-কমিশনার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা—তিনজনই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজনও একই ধর্মের অনুসারী।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি কেবলই কাকতালীয়। কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সীমান্ত নামে এক ব্যক্তির বাসায় বসে তা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পাশের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তারা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, অল্প সময়ে তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুল হলে সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তদন্তের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি। তিনি জানান, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তবে গ্রেপ্তার দুই যুবকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের গতিবিধি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তে কতটা পরিষ্কার হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।