ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা, হারাচ্ছে মাটির পণ্যের কদর

blank

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসছে। উৎসবকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বিরাজ করছে আনন্দ-উৎসবের আমেজ। আর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর মেলাকে সামনে রেখে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

যুগ যুগ ধরে ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে পূজার মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এদিন উপজেলার বড়াল ও গুমানী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। মেলায় মাটির তৈরি বাহারি খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদা থাকে বেশ।

সারা বছর তেমন কাজের চাপ না থাকলেও দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে পরিবারের শিশুরাও যুক্ত হয় এ কাজে। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ ছাঁচে ফেলে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। আবার কেউ শুকিয়ে নেওয়া খেলনা ও তৈজসপত্রে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন নানা নকশা।

মেলায় শিশুদের জন্য মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁস-মুরগি, খরগোশ, মাটির ব্যাংকসহ নানা ধরনের খেলনা তৈরি করছেন কারিগররা। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে চায়ের কাপ, পিঠা তৈরির ছাঁচ, ফুলদানি, হাঁড়ি-পাতিল, কলস, মটকা, প্রদীপ ও দেয়ালে ঝোলানোর শোপিসসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী।

সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার কালীবাড়ি পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, দুর্গাপূজার মেলায় বিক্রির জন্য মৃৎশিল্পীরা নানা ধরনের মাটির পণ্য তৈরি ও রং করার কাজে ব্যস্ত। কারও হাতে তৈরি হচ্ছে মাটির পুতুল, কারও হাতে ফুটে উঠছে হাতি-ঘোড়া কিংবা নানা প্রজাতির পাখির অবয়ব। রং ও নকশার ছোঁয়ায় এসব পণ্য হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, সারা বছর মাটির তৈরি পণ্য বিক্রি করে তেমন আয় হয় না। তবে দুর্গাপূজার মেলাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। মাটির তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্রের প্রতি শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের আগ্রহ থাকলেও প্লাস্টিক ও আধুনিক সামগ্রীর দাপটে আগের মতো বিক্রি নেই।

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী শ্রী সাধন চন্দ্র পাল বলেন, “একসময় মৃৎশিল্পীদের বেশ কদর ছিল। সময়ের পরিবর্তনে সেই কদর অনেকটাই কমে গেছে। এখন আর এ পেশায় সমৃদ্ধির আশা তেমন নেই। তবুও পূর্বপুরুষের কাছ থেকে শেখা কাজের প্রতি ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও পূজার মেলায় বিক্রির জন্য হরিণ, হাতি, গরু, ঘোড়া, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক ও টিয়াসহ নানা ধরনের মাটির খেলনা তৈরি করছি। প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যের ভিড়েও মানুষের ভালোবাসায় আমাদের মাটির পণ্য এখনো টিকে আছে।”

কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিকতার প্রভাবে মাটির তৈরি সামগ্রীর জায়গা দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের পণ্য। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্বার্থে মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এ শিল্পের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে মৃৎশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

blank

রায়গঞ্জে জেলি পুশ করা ৪৫০ কেজি চিংড়ি জব্দ, পরে ধ্বংস

ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা, হারাচ্ছে মাটির পণ্যের কদর

প্রকাশের সময় : ১৬ মিনিট আগে
blank

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসছে। উৎসবকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বিরাজ করছে আনন্দ-উৎসবের আমেজ। আর দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর মেলাকে সামনে রেখে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাটির খেলনা ও তৈজসপত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

যুগ যুগ ধরে ভাঙ্গুড়ায় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে পূজার মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। এদিন উপজেলার বড়াল ও গুমানী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। মেলায় মাটির তৈরি বাহারি খেলনা ও গৃহস্থালি সামগ্রীর চাহিদা থাকে বেশ।

সারা বছর তেমন কাজের চাপ না থাকলেও দুর্গাপূজার মেলা সামনে রেখে ভাঙ্গুড়া উপজেলার পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে পরিবারের শিশুরাও যুক্ত হয় এ কাজে। কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ ছাঁচে ফেলে তৈরি করছেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। আবার কেউ শুকিয়ে নেওয়া খেলনা ও তৈজসপত্রে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন নানা নকশা।

মেলায় শিশুদের জন্য মাটির পুতুল, হাতি, ঘোড়া, পাখি, হাঁস-মুরগি, খরগোশ, মাটির ব্যাংকসহ নানা ধরনের খেলনা তৈরি করছেন কারিগররা। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে চায়ের কাপ, পিঠা তৈরির ছাঁচ, ফুলদানি, হাঁড়ি-পাতিল, কলস, মটকা, প্রদীপ ও দেয়ালে ঝোলানোর শোপিসসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী।

সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার কালীবাড়ি পালপাড়া ঘুরে দেখা যায়, দুর্গাপূজার মেলায় বিক্রির জন্য মৃৎশিল্পীরা নানা ধরনের মাটির পণ্য তৈরি ও রং করার কাজে ব্যস্ত। কারও হাতে তৈরি হচ্ছে মাটির পুতুল, কারও হাতে ফুটে উঠছে হাতি-ঘোড়া কিংবা নানা প্রজাতির পাখির অবয়ব। রং ও নকশার ছোঁয়ায় এসব পণ্য হয়ে উঠছে আরও আকর্ষণীয়।

মৃৎশিল্পীরা জানান, সারা বছর মাটির তৈরি পণ্য বিক্রি করে তেমন আয় হয় না। তবে দুর্গাপূজার মেলাকে কেন্দ্র করে কিছুটা বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। মাটির তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্রের প্রতি শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের আগ্রহ থাকলেও প্লাস্টিক ও আধুনিক সামগ্রীর দাপটে আগের মতো বিক্রি নেই।

ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের কালীবাড়ি পালপাড়ার মৃৎশিল্পী শ্রী সাধন চন্দ্র পাল বলেন, “একসময় মৃৎশিল্পীদের বেশ কদর ছিল। সময়ের পরিবর্তনে সেই কদর অনেকটাই কমে গেছে। এখন আর এ পেশায় সমৃদ্ধির আশা তেমন নেই। তবুও পূর্বপুরুষের কাছ থেকে শেখা কাজের প্রতি ভালোবাসা ও শিকড়ের টানে পেশাটি আঁকড়ে ধরে আছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও পূজার মেলায় বিক্রির জন্য হরিণ, হাতি, গরু, ঘোড়া, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক ও টিয়াসহ নানা ধরনের মাটির খেলনা তৈরি করছি। প্লাস্টিক ও স্টিলের পণ্যের ভিড়েও মানুষের ভালোবাসায় আমাদের মাটির পণ্য এখনো টিকে আছে।”

কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও আধুনিকতার প্রভাবে মাটির তৈরি সামগ্রীর জায়গা দখল করছে প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের পণ্য। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে মাটির তৈরি অনেক ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্বার্থে মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এ শিল্পের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে মৃৎশিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”