ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যার আগে সতর্ক করেনি চীন, দাবি নেপালের

blank

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যার আগে চীন কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নেপালের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাই। শনিবার (২৯ আগস্ট) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

মাধব প্রসাদ চৌলাগাই বলেন, গত বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোত আছড়ে পড়ার আগে নেপালের কাছে চীনের পক্ষ থেকে কোনো সময়োপযোগী সতর্কবার্তা পৌঁছায়নি।

দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির কারণেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ছোট পরিসরে একটি হিমবাহসংক্রান্ত ঘটনা ঘটার পর নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে এবারের দুর্যোগের আগে সেই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হয়নি।

চীনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ধসের সূত্রপাত নেপালের ভূখণ্ডে হয়েছে। তবে এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মাধব প্রসাদ চৌলাগাই বলেন, দুর্যোগের উৎপত্তি তিব্বত এলাকায়। এ বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য, স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, নেপালের বিদ্যমান আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা মূলত হিমবাহের হ্রদকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। কিন্তু এবার বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল ধস নেমে একটি পুরো নদী ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে, এমন পরিস্থিতি আগে কল্পনাও করা হয়নি।

নেপাল, চীন ও ভারতের মধ্যে একটি কার্যকর যৌথ পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকাকে ‘মানবতার পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান সাবেক এই মন্ত্রী।

এদিকে, টানা চতুর্থ দিনের মতো নেপালে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল সেনাবাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সদস্যসহ দেশটির ১১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী বর্তমানে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণের অভিযোগ, কলেজকর্মীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা নেওয়ারও দাবি

বন্যার আগে সতর্ক করেনি চীন, দাবি নেপালের

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যার আগে চীন কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নেপালের সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী মাধব প্রসাদ চৌলাগাই। শনিবার (২৯ আগস্ট) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

মাধব প্রসাদ চৌলাগাই বলেন, গত বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ, পাথর ও কাদার ভয়াবহ স্রোত আছড়ে পড়ার আগে নেপালের কাছে চীনের পক্ষ থেকে কোনো সময়োপযোগী সতর্কবার্তা পৌঁছায়নি।

দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির কারণেই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৫ সালে ছোট পরিসরে একটি হিমবাহসংক্রান্ত ঘটনা ঘটার পর নেপাল ও চীনের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। তবে এবারের দুর্যোগের আগে সেই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হয়নি।

চীনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ধসের সূত্রপাত নেপালের ভূখণ্ডে হয়েছে। তবে এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মাধব প্রসাদ চৌলাগাই বলেন, দুর্যোগের উৎপত্তি তিব্বত এলাকায়। এ বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য, স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, নেপালের বিদ্যমান আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা মূলত হিমবাহের হ্রদকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। কিন্তু এবার বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল ধস নেমে একটি পুরো নদী ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে, এমন পরিস্থিতি আগে কল্পনাও করা হয়নি।

নেপাল, চীন ও ভারতের মধ্যে একটি কার্যকর যৌথ পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকাকে ‘মানবতার পরিপন্থী’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান সাবেক এই মন্ত্রী।

এদিকে, টানা চতুর্থ দিনের মতো নেপালে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল সেনাবাহিনীর ৫ হাজারের বেশি সদস্যসহ দেশটির ১১ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী বর্তমানে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।