নদীবেষ্টিত চারণভূমি আর জলাশয়ে বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় সাঁতার জানলেও এটিই যে একদিন জীবনের অন্যতম পরিচয় হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি নাটোরের গুরুদাসপুরের আতিকুর রহমান আতিক। দীর্ঘদিনের সাধনা, প্রশিক্ষণ ও পরিশ্রমে তিনি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত একজন সাঁতারু ও প্রশিক্ষক। প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে অংশ নিয়ে তাঁর অর্জনের ঝুলিতে জমেছে দেশ-বিদেশের ৩৩০টি পদক।
৪৫ বছর বয়সী আতিকুর রহমানের বাড়ি গুরুদাসপুর পৌরসভার খলিফাপাড়া মহল্লায়। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নাটোর জেলার মধ্যে তিনিই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ফেডারেশনের এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
আতিকুরের সাঁতারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সাঁতারে নিজের দক্ষতা বিকশিত করতে থাকেন। পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে একজন দক্ষ সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কোচ ও প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন আতিকুর রহমান। তাঁর প্রশিক্ষণে তৈরি হয়েছেন অনেক সাঁতারু। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন প্রজন্মের সাঁতারু তৈরিতেও তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সাফল্যের স্বাক্ষর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি একাধিক পদক অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ২০০৪ সালের পাকিস্তান সাফ গেমস, ২০০৬ সালের শ্রীলঙ্কা, ২০০৮ সালের ইন্দো-বাংলা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইভেন্ট উল্লেখযোগ্য। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও তাঁর রয়েছে একাধিক সাফল্য।
সাঁতারের পাশাপাশি সংগঠক ও প্রশিক্ষক হিসেবেও আতিকুরের ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দেশের সাঁতার অঙ্গনের উন্নয়ন ও নতুন প্রতিভা তৈরিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ফুটবল একাডেমির মাধ্যমে যেমন তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে, তেমনি আতিকুর রহমান এর মতো নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরাও ক্রীড়াক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রচেষ্টা নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, আতিকুর রহমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অর্জন কাজে লাগিয়ে গুরুদাসপুরসহ নাটোরে সাঁতারের আরও প্রসার ঘটবে এবং তাঁর হাত ধরে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসবে নতুন নতুন প্রতিভা।

আয়নাল হক,গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 

















