মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টায় আবারও আলোচনায় বসছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে অংশ নিতে আগামীকাল রোববারই উভয় দেশের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার থেকেই স্থগিত হওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করতে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। বর্তমানে উভয় পক্ষ দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি পালন করছে, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করেছে। পর্দার আড়ালে এই প্রক্রিয়া সফল করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রয়েছেন এবং সেনাপ্রধান তেহরানে ইরানি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন।
আসন্ন এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য প্রদেশ থেকে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য রাজধানীতে আনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত শনিবার প্রথম দফার আলোচনার সময় প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান।
শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যে। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি নিজে ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে আলোচনার টেবিলে থাকা প্রায় সব শর্তই তেহরান মেনে নিয়েছে।
টানা ৪০ দিনের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ১৯৭৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসে দেশ দুটি। ২১ ঘণ্টার সেই দীর্ঘ আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় প্রতিনিধিরা নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। তবে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই সোমবারের এই দ্বিতীয় দফার বৈঠককে স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।

অনলাইন ডেস্ক 


















