ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুরুদাসপুরে দুই শিক্ষককে কাফনের কাপড়সহ হুমকির চিঠি, ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক

blank

 নাটোরের গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজে দুই শিক্ষকের নামে কাফনের কাপড়সহ হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যজনক এই ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছুটির সময় প্রধান করণিক রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি চিঠি গ্রহণ করেন। রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কলেজ খোলার পর চিঠি দুটি খোলা হলে, খামের ভেতর থেকে প্রত্যেকটিতে তিন টুকরো করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় বেরিয়ে আসে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তাৎক্ষণিকভাবে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, চিঠি দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদের নামে এসেছে। খামের ওপর প্রেরকের কোনো ফোন নম্বর না থাকলেও ‘জনি শেখ’সহ আরও এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে। ডাকঘর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চিঠি দুটি গুরুদাসপুর ডাকঘর থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং ডাকঘরের একজন পিয়ন অফিশিয়াল রিসিভ নিয়ে সেগুলো কলেজে পৌঁছে দেন।

ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি এরই মধ্যে গুরুদাসপুর থানাকে অবগত করেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী জানান, “ঘটনা জানার পরপরই ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে আমরা জরুরি বৈঠক করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, “ঘটনাটি পুলিশ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এর পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

blank

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কলেজটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে যে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলে আসছে, তার জের ধরেই এই ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

blank

নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪২ লিটার চোলাই মদসহ দুই মহিলা গ্রেফতার

গুরুদাসপুরে দুই শিক্ষককে কাফনের কাপড়সহ হুমকির চিঠি, ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক

প্রকাশের সময় : ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
blank

 নাটোরের গুরুদাসপুরে রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজে দুই শিক্ষকের নামে কাফনের কাপড়সহ হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রহস্যজনক এই ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ছুটির সময় প্রধান করণিক রাফিজা খাতুন ডাকযোগে আসা দুটি রেজিস্ট্রি চিঠি গ্রহণ করেন। রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে কলেজ খোলার পর চিঠি দুটি খোলা হলে, খামের ভেতর থেকে প্রত্যেকটিতে তিন টুকরো করে মোট ছয় টুকরো সাদা কাফনের কাপড় বেরিয়ে আসে। বিষয়টি জানাজানি হতেই তাৎক্ষণিকভাবে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, চিঠি দুটি পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা থেকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিগুলো কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবদুস সামাদের নামে এসেছে। খামের ওপর প্রেরকের কোনো ফোন নম্বর না থাকলেও ‘জনি শেখ’সহ আরও এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে। ডাকঘর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চিঠি দুটি গুরুদাসপুর ডাকঘর থেকে রেজিস্ট্রির মাধ্যমে পাঠানো হয় এবং ডাকঘরের একজন পিয়ন অফিশিয়াল রিসিভ নিয়ে সেগুলো কলেজে পৌঁছে দেন।

ঘটনার বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা। আমরা বিষয়টি এরই মধ্যে গুরুদাসপুর থানাকে অবগত করেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক ওমর আলী জানান, “ঘটনা জানার পরপরই ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে আমরা জরুরি বৈঠক করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, “ঘটনাটি পুলিশ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এর পেছনে কারা জড়িত, তা দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

blank

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কলেজটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে যে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলে আসছে, তার জের ধরেই এই ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।