ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে কী আছে

blank

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি।

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেনি। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম ছিল। তবে সেখানে তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সৌদির আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে।

কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এসব সাজার মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত।

চিঠিতে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ও তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

রায়ের অনুলিপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে নেওয়া হলো ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে কী আছে

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি।

সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানা যায়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেনি। পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম ছিল। তবে সেখানে তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

তালিকা অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সৌদির আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে।

কনস্যুলেটের চিঠিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এসব সাজার মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত।

চিঠিতে জানানো হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ও তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

রায়ের অনুলিপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।