ঢাকা শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে নৌকা বাইচ

blank

ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর তীরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করেছেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার প্রতিযোগিতা ঘিরে তিতাস নদীর দুই পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর ঢেউ, মাঝিদের বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, ভাটিয়ালি গান এবং দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

তিতাস নদীর পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ শেষে চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

উদ্বোধনের পর রঙিন পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ভাটিয়ালি গান এবং বৈঠার ছন্দে নদীর দুই পাড়ের দর্শনার্থীরাও উচ্ছ্বাসে সাড়া দেন। তাদের কণ্ঠে শোনা যায়—‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ এবং পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জেলা সদরের শাপলা ভয়েস ক্লাব। দলটি পায় দুই লাখ টাকা। দ্বিতীয় হয় সদর উপজেলার দারমা গ্রামের নৌকা দল, তারা পায় দেড় লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগরের পুইল যুব সংঘ, তাদের দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচ দেখতে তিতাস নদীর দুই তীরে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী জড়ো হন। কেউ নদীতীরের ঘাটে, কেউ ভবনের ছাদে আবার কেউ নৌযানে বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দিনভর তিতাস নদীর পাড়ে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।

blank

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে নৌকা বাইচ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাসে নৌকা বাইচ

প্রকাশের সময় : ২৭ মিনিট আগে
blank

ভাদ্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর তীরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উপভোগ করেছেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার প্রতিযোগিতা ঘিরে তিতাস নদীর দুই পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর ঢেউ, মাঝিদের বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ, ভাটিয়ালি গান এবং দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

তিতাস নদীর পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্ট থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মেড্ডা সরকারি শিশু পরিবার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। জেলার সদর, নবীনগরসহ বিভিন্ন এলাকার ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ শেষে চারটি নৌকা চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শিমরাইলকান্দি গাঁওগেরাম পয়েন্টে বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

উদ্বোধনের পর রঙিন পোশাকে সজ্জিত মাঝিরা সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে মাঝিদের ভাটিয়ালি গান এবং বৈঠার ছন্দে নদীর দুই পাড়ের দর্শনার্থীরাও উচ্ছ্বাসে সাড়া দেন। তাদের কণ্ঠে শোনা যায়—‘মারো টান, হেইয়ারে হেইয়াহো’।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ এবং পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জেলা সদরের শাপলা ভয়েস ক্লাব। দলটি পায় দুই লাখ টাকা। দ্বিতীয় হয় সদর উপজেলার দারমা গ্রামের নৌকা দল, তারা পায় দেড় লাখ টাকা। তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগরের পুইল যুব সংঘ, তাদের দেওয়া হয় এক লাখ টাকা। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দলকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।

নৌকা বাইচ দেখতে তিতাস নদীর দুই তীরে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী জড়ো হন। কেউ নদীতীরের ঘাটে, কেউ ভবনের ছাদে আবার কেউ নৌযানে বসে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে দিনভর তিতাস নদীর পাড়ে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।