ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় শোক, নিহতদের স্মরণে বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

blank

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। নিহতদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পাশের আমতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাকৃবির ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো হয়। এরপর নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের পরিবার ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে নেপালি শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক সহায়তা ও অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ভেটেরিনারি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই বলেন, নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে কঠিন সময় পার করছে। নিহতদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে জীবিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে শুধু সমবেদনা নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাস্তব সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক নেপালি শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ বলেন, দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর পেয়ে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। বাংলাদেশে অবস্থান করায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি নেপালের দুর্গত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

নেপালি শিক্ষার্থী দিবাকাস কাফলে বলেন, একজন নেপালি হিসেবে দেশের এই দুর্যোগে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। নেপালের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এমন আয়োজন করায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাকৃবি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। এই দুর্যোগে নিহতদের পরিবার, আহত, নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহমর্মিতা রয়েছে। সংকটের এই সময়ে নেপালের সরকার ও জনগণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি তারা সমব্যথী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রয়োজন হলে নেপালি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি

জনপ্রিয় খবর
blank

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিখোঁজ ২ হাজার ৪২৬, মৃত্যু ৬২৩

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় শোক, নিহতদের স্মরণে বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। নিহতদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পাশের আমতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাকৃবির ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

কর্মসূচির শুরুতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো হয়। এরপর নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তাদের পরিবার ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে নেপালি শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক সহায়তা ও অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ভেটেরিনারি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই বলেন, নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে কঠিন সময় পার করছে। নিহতদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে জীবিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে শুধু সমবেদনা নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাস্তব সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরেক নেপালি শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ বলেন, দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর পেয়ে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। বাংলাদেশে অবস্থান করায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি নেপালের দুর্গত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

নেপালি শিক্ষার্থী দিবাকাস কাফলে বলেন, একজন নেপালি হিসেবে দেশের এই দুর্যোগে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত। নেপালের মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এমন আয়োজন করায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় বাকৃবি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। এই দুর্যোগে নিহতদের পরিবার, আহত, নিখোঁজ ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহমর্মিতা রয়েছে। সংকটের এই সময়ে নেপালের সরকার ও জনগণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি তারা সমব্যথী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রয়োজন হলে নেপালি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি