ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?

blank

দীর্ঘদিন ধরে বক্তৃতা, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও পরিকল্পিত প্রচারের মাধ্যমে নিজের ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার উপস্থিতিতে এসেছে নতুন ধরনের পরিবর্তন।

৭৫ বছর বয়সী এই নেতা যেন তরুণদের কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হতে তাদের ভাষা ও উপস্থাপনার ধরন গ্রহণ করছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিকল্পিত কনটেন্ট দেখা গেলেও এখন তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধরনের ভিডিও এবং তরুণদের উদ্দেশে সেলফি-স্টাইলে দেওয়া বক্তব্য। এসব ভিডিওতে তরুণদের প্রায়ই ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করছেন মোদি।

সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তাকে জেন-জি তরুণদের জনপ্রিয় ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর বদলেছে কৌশল

ভারতের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশলে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনুরাগ মিনাস ভার্মার মতে, এক দশকের বেশি সময় ধরে বিজেপি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্সের মাধ্যমে শক্তিশালী অনলাইন রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তবে তরুণ প্রজন্ম এখন ভিন্নভাবে রাজনীতি ও অনলাইন কনটেন্ট গ্রহণ করছে।

ভারতের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দেশটির অন্যতম বড় ভোটার গোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারে।

মোদির ভিডিও নিয়ে ব্যঙ্গ

তরুণদের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামে নতুন ধরনের ভিডিও প্রকাশের পর শুরুতেই মোদিকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ দেখা যায়। আন্দোলনের সময় প্রকাশিত তার প্রথম সেলফি-স্টাইলের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে আলোচনায় মেতে ওঠেন।

ভিডিওটির আলো, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ও উপস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা ও ঠাট্টা করা হয়। এরপরের ভিডিওগুলোতে মোদির টিম ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, আলো এবং পেছনের দৃশ্য পরিবর্তন করে আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।

জনপ্রিয় খবর

হঠাৎ কেন রিলস বানাতে মন দিলেন মোদি?

প্রকাশের সময় : ৪ ঘন্টা আগে
blank

দীর্ঘদিন ধরে বক্তৃতা, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও পরিকল্পিত প্রচারের মাধ্যমে নিজের ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার উপস্থিতিতে এসেছে নতুন ধরনের পরিবর্তন।

৭৫ বছর বয়সী এই নেতা যেন তরুণদের কাছে আরও ঘনিষ্ঠ হতে তাদের ভাষা ও উপস্থাপনার ধরন গ্রহণ করছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিকল্পিত কনটেন্ট দেখা গেলেও এখন তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত ও স্বতঃস্ফূর্ত ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধরনের ভিডিও এবং তরুণদের উদ্দেশে সেলফি-স্টাইলে দেওয়া বক্তব্য। এসব ভিডিওতে তরুণদের প্রায়ই ‘বন্ধু’ বলে সম্বোধন করছেন মোদি।

সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তাকে জেন-জি তরুণদের জনপ্রিয় ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর বদলেছে কৌশল

ভারতের সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশলে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনুরাগ মিনাস ভার্মার মতে, এক দশকের বেশি সময় ধরে বিজেপি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও এক্সের মাধ্যমে শক্তিশালী অনলাইন রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তবে তরুণ প্রজন্ম এখন ভিন্নভাবে রাজনীতি ও অনলাইন কনটেন্ট গ্রহণ করছে।

ভারতের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দেশটির অন্যতম বড় ভোটার গোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারে।

মোদির ভিডিও নিয়ে ব্যঙ্গ

তরুণদের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামে নতুন ধরনের ভিডিও প্রকাশের পর শুরুতেই মোদিকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ দেখা যায়। আন্দোলনের সময় প্রকাশিত তার প্রথম সেলফি-স্টাইলের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে আলোচনায় মেতে ওঠেন।

ভিডিওটির আলো, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ও উপস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা ও ঠাট্টা করা হয়। এরপরের ভিডিওগুলোতে মোদির টিম ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, আলো এবং পেছনের দৃশ্য পরিবর্তন করে আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।