ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের শেষ বিদায়ে কারাগার থেকে প্যারোলে রাসেল, পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা

blank

চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান রাসেল। এ সময় বাড়িতে আগে থেকেই স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসীর ভিড় ছিল।

পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির উঠানে রাখা ফ্রিজিং গাড়িতে মায়ের মরদেহের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময়ও সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি পোশাক পরিবর্তন করে অজু করেন।

এরপর পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজার স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নামার পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় ভিড়ের মধ্য দিয়ে জানাজার মাঠে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন রাসেল।

বক্তব্যে রাসেল বলেন, “আজ যারা আমার মায়ের জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আমার মাকে চেনেন না। আমার মা পাটুলিপাড়ার মেয়ে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, মা সংসারের জন্য রান্নাঘরের চুলার পাশে থাকতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজ হাতে রান্না করেছেন। আমাদের বাড়িতে যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই মায়ের হাতের রান্না খেয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমার মা প্রকৃত অর্থেই একজন গৃহিণী ছিলেন। আজ তিনি পৃথিবীতে নেই। যারা ভালোবাসা থেকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। মানুষের ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন।”

নিজের পরিবারের জন্যও সবার কাছে দোয়া চান রাসেল। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আছে। আমাদের পরিবারের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। আর আমাদের পরিবার যদি এলাকাবাসীর কারও সঙ্গে কোনো ভুল করে থাকে, তাহলে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।”

blank

পরে মায়ের জানাজা নামাজে অংশ নেন রাসেল। জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে পুলিশি পাহারায় রাসেলকে পারভাঙ্গুড়া কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দেওয়া ও দোয়ায় অংশ নেন তিনি। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি আদালতে জামিন আবেদন করেন রাসেলের আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের জামিনের আদেশ যথাসময়ে পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও রাসেলকে তখন কারামুক্ত করা হয়নি।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে তার মা মারা যান। একই দিন রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় দায়ের করা অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের জামিন মঞ্জুর হলেও তা কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগারেই থেকে যান।

এ অবস্থায় মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আদালতে থাকা অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

জনপ্রিয় খবর
blank

মায়ের শেষ বিদায়ে কারাগার থেকে প্যারোলে রাসেল, পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা

মায়ের শেষ বিদায়ে কারাগার থেকে প্যারোলে রাসেল, পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা

প্রকাশের সময় : ৩৬ মিনিট আগে
blank

চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান রাসেল। এ সময় বাড়িতে আগে থেকেই স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসীর ভিড় ছিল।

পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির উঠানে রাখা ফ্রিজিং গাড়িতে মায়ের মরদেহের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময়ও সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি পোশাক পরিবর্তন করে অজু করেন।

এরপর পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজার স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে গাড়ি থেকে নামার পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় ভিড়ের মধ্য দিয়ে জানাজার মাঠে পৌঁছে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন রাসেল।

বক্তব্যে রাসেল বলেন, “আজ যারা আমার মায়ের জানাজায় উপস্থিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আমার মাকে চেনেন না। আমার মা পাটুলিপাড়ার মেয়ে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, মা সংসারের জন্য রান্নাঘরের চুলার পাশে থাকতেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজ হাতে রান্না করেছেন। আমাদের বাড়িতে যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই মায়ের হাতের রান্না খেয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আমার মা প্রকৃত অর্থেই একজন গৃহিণী ছিলেন। আজ তিনি পৃথিবীতে নেই। যারা ভালোবাসা থেকে এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের কাছে আমার মায়ের জন্য দোয়া চাই। মানুষের ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন।”

নিজের পরিবারের জন্যও সবার কাছে দোয়া চান রাসেল। তিনি বলেন, “আমার ছেলে আছে। আমাদের পরিবারের জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। আর আমাদের পরিবার যদি এলাকাবাসীর কারও সঙ্গে কোনো ভুল করে থাকে, তাহলে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।”

blank

পরে মায়ের জানাজা নামাজে অংশ নেন রাসেল। জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে পুলিশি পাহারায় রাসেলকে পারভাঙ্গুড়া কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দেওয়া ও দোয়ায় অংশ নেন তিনি। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা একটি বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি আদালতে জামিন আবেদন করেন রাসেলের আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের জামিনের আদেশ যথাসময়ে পাবনা জেলা কারাগারে পৌঁছালেও রাসেলকে তখন কারামুক্ত করা হয়নি।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে তার মা মারা যান। একই দিন রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় দায়ের করা অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের জামিন মঞ্জুর হলেও তা কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগারেই থেকে যান।

এ অবস্থায় মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আদালতে থাকা অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।