ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলিথিনের ঝুপড়িতে প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের মানবেতর জীবন

blank

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের পাশে একটি জরাজীর্ণ পলিথিনের ঝুপড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রতিবন্ধী মা মোছিনা বেগম (৫৬) ও তার মেয়ে মিনারা (৩১)। নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো কাপড়, প্লাস্টিকের বস্তা ও ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঝুপড়িই তাদের একমাত্র আশ্রয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাউনি ভেদ করে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর তীব্র রোদে ঘরের ভেতর অসহনীয় গরমে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মোছিনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী এবং তার মেয়ে মিনারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা কিংবা কাজ করতে পারেন না। পরিবারে উপার্জনের মতো কেউ না থাকায় প্রতিবেশীদের সহযোগিতা এবং সামান্য সরকারি ভাতার ওপরই নির্ভর করে চলছে তাদের জীবন।

প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি ভাতার অর্থে মা-মেয়ের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় অন্যের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটাতে হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা বলেন, মোছিনা বেগমের কোনো নিজস্ব জমি বা বসতভিটা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেড়িবাঁধের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন। বিষয়টি বহুবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি দ্রুত একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি জানান, প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। তাদের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। সংবাদটি জানার পর পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

জনপ্রিয় খবর
blank

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলনেস অ্যান্ড লাইফস্টাইল মেডিসিন গঠনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পলিথিনের ঝুপড়িতে প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের মানবেতর জীবন

প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে
blank

খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের পাশে একটি জরাজীর্ণ পলিথিনের ঝুপড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন প্রতিবন্ধী মা মোছিনা বেগম (৫৬) ও তার মেয়ে মিনারা (৩১)। নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোনো কাপড়, প্লাস্টিকের বস্তা ও ছেঁড়া পলিথিন দিয়ে তৈরি ছোট্ট একটি ঝুপড়িই তাদের একমাত্র আশ্রয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাউনি ভেদ করে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর তীব্র রোদে ঘরের ভেতর অসহনীয় গরমে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মোছিনা বেগম মানসিক প্রতিবন্ধী এবং তার মেয়ে মিনারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা কিংবা কাজ করতে পারেন না। পরিবারে উপার্জনের মতো কেউ না থাকায় প্রতিবেশীদের সহযোগিতা এবং সামান্য সরকারি ভাতার ওপরই নির্ভর করে চলছে তাদের জীবন।

প্রতিবেশীরা জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি ভাতার অর্থে মা-মেয়ের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় অন্যের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটাতে হয় তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আমির হামজা বলেন, মোছিনা বেগমের কোনো নিজস্ব জমি বা বসতভিটা নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেড়িবাঁধের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছেন। বিষয়টি বহুবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তিনি দ্রুত একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি জানান, প্রতিবন্ধী মা-মেয়ের বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। তাদের সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। সংবাদটি জানার পর পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।