ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলগাজীতে হাত-পা বাঁধা নারীর লাশ: নাকের আঁচড়ের দাগে ধরা পড়ল অভিযুক্ত

blank

ফেনীর ফুলগাজীতে নিজ বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ ঘটনায় নিহত নারীর এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম (৩১) একই গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। রোববার রাতে ফুলগাজী উপজেলার উত্তর ধর্মপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে টিনের চাল কেটে কুলসুম কাজলের ঘরে প্রবেশ করেন আরিফুল। নিহত কুলসুম কাজল (৩৫) কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী। তিনি ছোট সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘুম ভেঙে যাওয়ায় কুলসুমের সঙ্গে আরিফুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আরিফুল তার হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

র‍্যাবের দাবি, ধস্তাধস্তির সময় কুলসুমের নখের আঁচড়ে আরিফুলের নাকের নিচে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। এই আঁচড়ের দাগই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ক্ষতচিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা আরিফুলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

ঘটনার পরদিন ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় কুলসুমের ভাশুর পাশের ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে ঘরের টিনের চাল কাটা দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে কুলসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‍্যাব জানায়, আরিফুল একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। চলতি মাসের কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই তিনি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

পাহাড়ায় কালো বিড়াল

ফুলগাজীতে হাত-পা বাঁধা নারীর লাশ: নাকের আঁচড়ের দাগে ধরা পড়ল অভিযুক্ত

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
blank

ফেনীর ফুলগাজীতে নিজ বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ ঘটনায় নিহত নারীর এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম (৩১) একই গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। রোববার রাতে ফুলগাজী উপজেলার উত্তর ধর্মপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে টিনের চাল কেটে কুলসুম কাজলের ঘরে প্রবেশ করেন আরিফুল। নিহত কুলসুম কাজল (৩৫) কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী। তিনি ছোট সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন।

তদন্তে জানা যায়, ঘুম ভেঙে যাওয়ায় কুলসুমের সঙ্গে আরিফুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আরিফুল তার হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

র‍্যাবের দাবি, ধস্তাধস্তির সময় কুলসুমের নখের আঁচড়ে আরিফুলের নাকের নিচে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। এই আঁচড়ের দাগই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করে। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ক্ষতচিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা আরিফুলকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

ঘটনার পরদিন ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় কুলসুমের ভাশুর পাশের ঘর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে ঘরের টিনের চাল কাটা দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে কুলসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে।

র‍্যাব জানায়, আরিফুল একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। চলতি মাসের কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই তিনি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।