ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হল দখলের অভিযোগে রাবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন

blank

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে আসন দখলের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। তবে ছাত্রদল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে দাবি করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত মানববন্ধনে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন আবাসিক হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনের নীরব সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চলছে।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানায় ছাত্রশিবির। দাবিগুলো হলো—অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের আসন বাতিল করে হল দখলমুক্ত করা, শূন্য আসনের সংখ্যা প্রকাশ করে ওয়েটিং লিস্ট অনুযায়ী আসন বরাদ্দ দেওয়া এবং পুরো আসন বণ্টন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

এর আগে রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবির দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনটি আবাসিক হলে অবৈধভাবে আসন দখলের ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ও সমর্থক একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থান করছেন।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল অভিযোগ করেন, সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদল আবারও হল দখলের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পরিবেশ তৈরির অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের অনেক নেতার শিক্ষাজীবন শেষ হলেও তাঁদের আসন বহাল রাখা হয়েছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই আসন বাতিল করা হয়। এছাড়া হল প্রাধ্যক্ষদের জন্য সংরক্ষিত দারিদ্র্য কোটার আসনও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলও যদি হল দখলের চেষ্টা করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এক বিবৃতিতে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ছাত্রদল আরও জানায়, অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত।

জনপ্রিয় খবর
blank

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী বুরকিনা ফাসো: প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরে

হল দখলের অভিযোগে রাবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে আসন দখলের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। তবে ছাত্রদল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে দাবি করেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত মানববন্ধনে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন আবাসিক হলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন এবং প্রশাসনের নীরব সহযোগিতায় এ কার্যক্রম চলছে।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি জানায় ছাত্রশিবির। দাবিগুলো হলো—অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের আসন বাতিল করে হল দখলমুক্ত করা, শূন্য আসনের সংখ্যা প্রকাশ করে ওয়েটিং লিস্ট অনুযায়ী আসন বরাদ্দ দেওয়া এবং পুরো আসন বণ্টন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা।

এর আগে রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবির দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনটি আবাসিক হলে অবৈধভাবে আসন দখলের ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা ও সমর্থক একাডেমিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও হলে অবস্থান করছেন।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল অভিযোগ করেন, সরকার-সমর্থিত ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদল আবারও হল দখলের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পরিবেশ তৈরির অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের অনেক নেতার শিক্ষাজীবন শেষ হলেও তাঁদের আসন বহাল রাখা হয়েছে। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই আসন বাতিল করা হয়। এছাড়া হল প্রাধ্যক্ষদের জন্য সংরক্ষিত দারিদ্র্য কোটার আসনও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজিব বলেন, ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলও যদি হল দখলের চেষ্টা করে, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এক বিবৃতিতে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ছাত্রদল আরও জানায়, অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত।