পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান এবং তাঁর বড় ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকেল ৪টার দিকে চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঘটনায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর বড় ছেলে কেএম মনোয়ারুল ইসলাম শাফিকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে কেএম মনোয়ারুল ইসলাম শাফি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ফৈলজানা বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোড়া প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ফৈলজানা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে হামলা ও ভাঙচুর মামলার আসামি লোকমান হোসেন ও যুবদল নেতা মামুনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন ব্যক্তি তাদের প্রচারণায় বাধা দেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা বলেন—ধানের শীষ ছাড়া এলাকায় কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণা চলবে না। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা কেএম মনোয়ারুল ইসলাম শাফিকে মারধর করেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন।
খবর পেয়ে শরৎগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আঃ খালেক পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আমার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য লোকমান হোসেন বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে আমাদের এলাকায় এসে বিএনপির স্থানীয় প্রার্থী দাবি করে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এতে স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা আপত্তি জানান। এ সময় সামান্য কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে। বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, “মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লিখিত পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাটমোহর প্রতিনিধি 



















