ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন, আরব দলগুলোর সমর্থনে এগিয়ে আইজেনকট

blank

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিরা আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। এর ফলে নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন বিরোধী জোটের এই নেতা। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ আইনপ্রণেতা।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেও আইজেনকটের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখনো নিশ্চিত নয়। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে আপত্তি রয়েছে তাঁর সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের। ফলে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো জটিল।

গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ আইনপ্রণেতা। সাতজন আইনপ্রণেতা কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি।

দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর ইসরায়েলে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ

নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। ইহুদি নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসনসংখ্যা ৪৮। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসনসংখ্যা ১৯। দুই শিবিরের আইনপ্রণেতারাই আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়নি। ফলে আইজেনকটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সমর্থনকারী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে কার্যকর সরকার গঠন করা।

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান।

আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে গঠিত সরকারটির নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার-সংক্রান্ত অবস্থান বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে আব্বাস হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার চাইলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষায়, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

পরিবর্তন চান আরব নাগরিকেরা

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি বলেন, তাঁর দল সরকারে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে মাত্র এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা।

আগামী নেসেটে জয়েন্ট লিস্টের ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিবি বলেন, পার্লামেন্টে তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। দলটির এই অবস্থানের ফলে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপর পার্লামেন্টের নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

তবে আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ এখনো বড়। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমন একটি সরকার গঠন করতে হবে, যা নেসেটে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

জনপ্রিয় খবর
blank

মহাদেবপুরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৫

নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরার পথ কঠিন, আরব দলগুলোর সমর্থনে এগিয়ে আইজেনকট

প্রকাশের সময় : ৫ ঘন্টা আগে
blank

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিরা আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। এর ফলে নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন বিরোধী জোটের এই নেতা। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ আইনপ্রণেতা।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেলেও আইজেনকটের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখনো নিশ্চিত নয়। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে আপত্তি রয়েছে তাঁর সম্ভাব্য জোটের কয়েকটি ইহুদি দলের। ফলে সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো জটিল।

গত বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজগ জানান, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ আইনপ্রণেতা। সাতজন আইনপ্রণেতা কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি।

দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।

আইজেনকটের দল ইয়াশার দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর ইসরায়েলে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাননি।

সরকার গঠনে জটিল সমীকরণ

নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত। ইহুদি নেতৃত্বাধীন চারটি দলের আসনসংখ্যা ৪৮। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল ও জোটের আসনসংখ্যা ১৯। দুই শিবিরের আইনপ্রণেতারাই আইজেনকটকে সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে ইহুদি নেতৃত্বাধীন তিনটি দল এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়নি। ফলে আইজেনকটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, সমর্থনকারী দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে কার্যকর সরকার গঠন করা।

আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়া আরব দলগুলোর মধ্যে রয়েছে রাআম ও জয়েন্ট লিস্ট। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি ভালো সরকার দেখতে চান।

আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বে গঠিত সরকারটির নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার-সংক্রান্ত অবস্থান বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

তবে আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্ত রয়েছে। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে আব্বাস হামাসকে সরাসরি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তবে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সরকার চাইলে রাআম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও মন্তব্য করেন আব্বাস। তাঁর ভাষায়, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

পরিবর্তন চান আরব নাগরিকেরা

অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেন, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা বর্ণবাদ, বৈষম্য, অপরাধ ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার কারণে পরিবর্তন চান। আইজেনকটের সঙ্গে তাঁদের অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

জয়েন্ট লিস্টের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি বলেন, তাঁর দল সরকারে সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দিতে পারে। তবে সরকারকে মাত্র এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা।

আগামী নেসেটে জয়েন্ট লিস্টের ১১টি আসন থাকবে উল্লেখ করে তিবি বলেন, পার্লামেন্টে তাঁদের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক বা সংসদীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে না।

নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল

এদিকে গত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সাত আসনে জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেয়নি। দলটির এই অবস্থানের ফলে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও দুর্বল হয়েছে।

আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এরপর পার্লামেন্টের নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার। দলটির নেতাদের মতে, ইসরায়েলের এখন নতুন নেতৃত্ব ও স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

তবে আইজেনকটের সামনে সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ এখনো বড়। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমন একটি সরকার গঠন করতে হবে, যা নেসেটে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।