ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জামায়াতনির্ভর রাজনীতি, আদর্শিক অবস্থান ও কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে অসন্তোষ

এনসিপি ছাড়লেন প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী সামান্তা শারমিন

blank

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। দলটির পুনর্গঠিত কমিটিতে পদাবনতির দুই সপ্তাহের মাথায় তাঁর এ পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির অন্যতম সংগঠক ছিলেন সামান্তা শারমিন। দল গঠনের আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আত্মপ্রকাশের সময় তাঁকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তাঁর অভিযোগ, নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি ক্রমেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলকে এখন বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের জন্য প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।

সামান্তার মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নারীবিরোধী ও রক্ষণশীল প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া কাউন্সিল ছাড়াই দলের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামান্তা। তাঁর ভাষ্য, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হলেও দলীয় নেতৃত্ব অবস্থান পরিবর্তনে আগ্রহ দেখায়নি। এ পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে সামান্তা শারমিন বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি দলের গ্রুপেও পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।

নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত

এনসিপি ছাড়ার পর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, যারা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি করবে না; বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতির পথ তৈরি করবে।

তিনি মনে করেন, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো একটি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা নয়; বরং এমন একটি রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা, যেখানে ভিন্নমত ও মতাদর্শের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ অতীতের কোনো দলের পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়; বরং তা হতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি নতুন প্রচেষ্টা।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ, তাঁদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে সামান্তা লেখেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়েই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরির প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে চাই।’

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রমে সামান্তা শারমিনের সক্রিয়তা কমে আসে। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর দলটির পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। কমিটিতে পদাবনতির পরপরই তাঁর দলত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে এল।

জনপ্রিয় খবর
blank

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নওগাঁ জেলা পুলিশের পুনাকের টিকাদান কর্মসূচি

জামায়াতনির্ভর রাজনীতি, আদর্শিক অবস্থান ও কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে অসন্তোষ

এনসিপি ছাড়লেন প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী সামান্তা শারমিন

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। দলটির পুনর্গঠিত কমিটিতে পদাবনতির দুই সপ্তাহের মাথায় তাঁর এ পদত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির অন্যতম সংগঠক ছিলেন সামান্তা শারমিন। দল গঠনের আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আত্মপ্রকাশের সময় তাঁকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে এনসিপির রাজনৈতিক আদর্শ ও স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তাঁর অভিযোগ, নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় এনসিপি ক্রমেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলকে এখন বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের জন্য প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।

সামান্তার মতে, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় ও নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান নারীবিরোধী ও রক্ষণশীল প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে বলেও মনে করেন তিনি।

এ ছাড়া কাউন্সিল ছাড়াই দলের কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সামান্তা। তাঁর ভাষ্য, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হলেও দলীয় নেতৃত্ব অবস্থান পরিবর্তনে আগ্রহ দেখায়নি। এ পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে সামান্তা শারমিন বলেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি দলের গ্রুপেও পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।

নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত

এনসিপি ছাড়ার পর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, যারা পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোর পুনরাবৃত্তি করবে না; বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থভিত্তিক রাজনীতির পথ তৈরি করবে।

তিনি মনে করেন, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, নারীর সমান অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় স্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো একটি নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা নয়; বরং এমন একটি রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা, যেখানে ভিন্নমত ও মতাদর্শের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগ অতীতের কোনো দলের পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়; বরং তা হতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি নতুন প্রচেষ্টা।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ, তাঁদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে সামান্তা লেখেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়েই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরির প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে চাই।’

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রমে সামান্তা শারমিনের সক্রিয়তা কমে আসে। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর দলটির পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। কমিটিতে পদাবনতির পরপরই তাঁর দলত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে এল।