কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের ছয় প্রতিবন্ধী নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন ও প্রয়োজনীয় দর্জি সরঞ্জাম বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের এফডিআইডিপি প্রকল্প। নদীভাঙন ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে চলা চরাঞ্চলের এসব নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফ্রেন্ডশিপ এফডিআইডিপি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নির্বাচিত ছয়জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে একটি করে সেলাই মেশিন ও স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ শুরু করার জন্য তাঁদের কাপড় কাটার কাঁচি, দুই রোল সুতা, মাপার ফিতা, স্কেল এবং অতিরিক্ত মেশিনের সুইসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়া হয়। ফলে এসব উপকরণ ব্যবহার করে তাঁরা বাড়তি খরচ ছাড়াই সেলাইয়ের কাজ শুরু করতে পারবেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ফ্রেন্ডশিপের অফিস চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সেলাই মেশিন ও উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান মন্ডল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডশিপের ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আশরাফ মল্লিক এবং এফডিআইডিপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম। এ সময় ফ্রেন্ডশিপের অন্যান্য কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধী মানুষেরা সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। তাঁদের পিছিয়ে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তাঁরাও নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
বক্তারা আরও বলেন, ফ্রেন্ডশিপের এ উদ্যোগ চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তাঁদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও সুদৃঢ় হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেলাই মেশিন ও প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। তাঁদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন প্রত্যয়। সেলাইয়ের কাজের মাধ্যমে আয় করে নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থায় অবদান রাখার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলে এ ধরনের কর্মমুখী ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 


















