নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করার অভিযোগে এক যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীকে হেনস্তা করে গ্রামছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ওই যুবকের বয়স ৩৫ বছর। তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি নিজের প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে (২১) বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁরা জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
তবে আপন দুই বোনকে বিয়ে করার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের আপত্তি এবং ইসলাম ধর্মে একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই—এমন যুক্তিতে তাঁদের বদলগাছীর ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে হয় বলে জানা গেছে। পরে সোমবার রাতে দুই স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুরে নিজের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন ওই যুবক।
শ্বশুরবাড়িতে তাঁদের আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। তরুণ প্রজন্মের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন যুক্তিতে তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে একদল মানুষ উল্লাস করছেন। এ সময় তাঁদের মারধর করা হয়, মুখে চুনকালি মাখানো হয় এবং গলায় জুতার মালা পরানো হয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
জানা গেছে, বর্তমানে ওই যুবক ও দুই বোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী যুবকের শ্বশুর গণমাধ্যমকে জানান, রাতে গ্রামের লোকজন এসে তাঁর দুই মেয়ে ও জামাতাকে নানাভাবে হেনস্তা করেন। তাঁদের মারধর করে জোরপূর্বক গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়।
নওগাঁ জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আকরাম হোসেন জানান, ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এবং তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকলে সেই স্ত্রীর আপন বোনকে বিয়ে করা নাজায়েজ। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে কিংবা তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা জায়েজ রয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক 


















