ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকও ব্যর্থ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ‘ইসলামাবাদ টকস’

blank

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আলোচনার ফলাফল নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে রোববার পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনার বিষয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি। ইতিবাচক দিক হলো—বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।”

 সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানান যে, ওয়াশিংটন তার নিজস্ব ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি কোন কোন বিষয়ে আমরা ছাড় দিতে পারি এবং কোন বিষয়গুলোতে আপস করা সম্ভব নয়। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”

বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করা যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা এমন কোনো সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে না যা দিয়ে দ্রুত অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।”

 আলোচনার আয়োজন এবং মধ্যস্থতা করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের আতিথেয়তা ছিল চমৎকার। আলোচনা সফল না হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের কোনো দায় নেই। বরং তারা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দুই দেশের দূরত্ব কমিয়ে আনতে চেষ্টা করেছে।”

 ইরান ঠিক কোন প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভ্যান্স বলেন, “দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ব্যক্তিগত আলোচনার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। তবে আসল প্রশ্ন হলো—ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার বিষয়ে সত্যিকারের অঙ্গীকার দেখাবে কি না। আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি দেখতে পাইনি, তবে ভবিষ্যতে সেই প্রত্যাশা আমরা রাখি।”

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা কমিয়ে আনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যার অভাব বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

blank

বিশ্ব বদলানো ১০০ মুখ: প্রকাশ পেল ‘টাইম ১০০’ তালিকা

২১ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকও ব্যর্থ: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ‘ইসলামাবাদ টকস’

প্রকাশের সময় : ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
blank

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জিত হয়নি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আলোচনার ফলাফল নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠক চলে রোববার পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনার বিষয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি। ইতিবাচক দিক হলো—বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।”

 সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানান যে, ওয়াশিংটন তার নিজস্ব ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি কোন কোন বিষয়ে আমরা ছাড় দিতে পারি এবং কোন বিষয়গুলোতে আপস করা সম্ভব নয়। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”

বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আদায় করা যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা এমন কোনো সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে না যা দিয়ে দ্রুত অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।”

 আলোচনার আয়োজন এবং মধ্যস্থতা করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের আতিথেয়তা ছিল চমৎকার। আলোচনা সফল না হওয়ার পেছনে পাকিস্তানের কোনো দায় নেই। বরং তারা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দুই দেশের দূরত্ব কমিয়ে আনতে চেষ্টা করেছে।”

 ইরান ঠিক কোন প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভ্যান্স বলেন, “দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ব্যক্তিগত আলোচনার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। তবে আসল প্রশ্ন হলো—ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার বিষয়ে সত্যিকারের অঙ্গীকার দেখাবে কি না। আমরা এখনো সেই প্রতিশ্রুতি দেখতে পাইনি, তবে ভবিষ্যতে সেই প্রত্যাশা আমরা রাখি।”

সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা কমিয়ে আনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যার অভাব বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।