২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩৭০ জন ইসরায়েলি চিকিৎসক টানা কমপক্ষে ১২ মাসের জন্য দেশ ছেড়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ এ তথ্য জানিয়েছে। এই সংখ্যা ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশত্যাগ করা ৭০৫ জন চিকিৎসকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় চিকিৎসকদের দেশত্যাগের এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় এমন চিকিৎসকদের দেশত্যাগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যারা বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম বছরে টানা ২৭০ দিনের বেশি সময় অবস্থান করেছেন এবং এরপর টানা তিন মাসের বেশি সময় ইসরায়েলে থাকেননি।
গবেষণার অন্যতম লেখক ইতাই আতির ইসরায়েলি দৈনিক ‘হারেৎস’-কে বলেন, সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে উচ্চদক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়তে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছিলেন।
তার মতে, বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে বিতর্কের সময় থেকেই চিকিৎসকদের দেশত্যাগের প্রবণতা শুরু হয়। তবে ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা, পরবর্তী যুদ্ধ এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে তৈরি পরিস্থিতির কারণে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে।
গবেষণায় ৪৫ বছরের বেশি বয়সী চিকিৎসকদের দেশত্যাগের বিষয়টিও আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সাধারণত এই বয়সী চিকিৎসকরাই বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ শেষ করে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েল ছেড়ে যাওয়া চিকিৎসকদের প্রতি পাঁচজনের একজনের বয়স ছিল ৪৫ বছরের বেশি। গবেষকদের মতে, অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের এমন দেশত্যাগ ইসরায়েলের স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক 

















