ডাক বিভাগের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকার চেক হস্তান্তর করেছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ডাক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম (এমপি)-এর হাতে চেক তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকনিযুক্ত নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে নগদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নগদকে আরও শক্তিশালী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। তিনি নগদকে ঘিরে কোনো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণে নগদের অবদান উল্লেখযোগ্য।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, নগদের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পাচ্ছে। ভবিষ্যতে ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে নগদ সরকারকে মোট ৯৪৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করেছে এবং ডাক বিভাগকে দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানও লাভজনকভাবে পরিচালিত হতে পারে—নগদ তার সফল উদাহরণ।
নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনতে নগদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন উদ্ভাবন, গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে অবদান রেখে চলেছে।
২০১৯ সালের মার্চে যাত্রা শুরুর পর থেকে ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নগদ সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক বিনিয়োগ বহন করে আসছে। সেবা থেকে অর্জিত আয়ের ৫১ শতাংশ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এবং বাকি ৪৯ শতাংশ নগদ লিমিটেড পেয়ে থাকে।
সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্বসহ এ পর্যন্ত ডাক বিভাগকে মোট ৪৭ কোটি টাকা দিয়েছে নগদ। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভ্যাট ও অন্যান্য কর বাবদ সরকারকে ৩১৩ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে নগদের সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে এবং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দুই কোটিরও বেশি হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















