যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আজ (সোমবার) বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে মতবিনিময়ই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। শরিকদের পাশাপাশি নির্বাচনের আগে নিজ নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে খোলামেলা আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সরকার পরিচালনা এবং সমন্বিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়েও মতবিনিময় হতে পারে।
অন্যদিকে বিএনপি ও শরিক দলগুলোর একাধিক নেতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে মিত্রদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সেটিও বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য ও কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতার মতে, নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপির ‘একলা চলার’ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আজকের বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ও বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার আশা করছেন তারা। সেই আলোচনার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের পরবর্তী ধারা নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং শরিকদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বৈঠকে জানার চেষ্টা করা হবে। সুযোগ পেলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণও তুলে ধরা হবে।
ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, বৈঠকে ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, যুগপৎ আন্দোলনের অংশ না হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মধ্যে আছে-গণতন্ত্র মঞ্চের জাতীয় সমাজতান্দি ক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। ১২ দলীয় জোটের জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), লেবার পার্টি, কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, এলডিপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম), জাগপা, ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ মাইনোরেটি জনতা পার্টি, ইসলামিক পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি ও এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টি। গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সাম্যবাদী দল (এমএল), সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি) ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)। বাম গণতান্ত্রিক জোটের সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, সমাজতান্ত্রিক পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ ও ইসলামী ঐক্যজোট।

অনলাইন ডেস্ক 


















