ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট চরমে: করিডোর ও গাছের নিচেই চলছে পাঠদান‎

blank

নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলেও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধায় অনেক কলেজের চেয়েও পিছিয়ে আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন পার করছেন শিক্ষার্থীরা। রুম না পেয়ে মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের করিডোর, ছয়দফা চত্বর কিংবা গাছের নিচে ক্লাস করতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বাস্তব চিত্র ও সাম্প্রতিক ঘটনা: গত ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলামকে ক্লাস নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে অবকাঠামো সংকট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর আগেও কক্ষ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়দফা চত্বর ও গাছতলায় ক্লাস করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যান ও ভয়াবহতা: বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫টি বিভাগের ১২৫টিরও বেশি ব্যাচের জন্য ক্লাসরুম রয়েছে মাত্র ৩৬টি। অনেক বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি রুম। ফলে একই সময়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস থাকলে শুরু হয় বিপত্তি। রুম খালি হওয়ার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বেগ: রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অলিভ খান বলেন, “একটি বিভাগের জন্য মাত্র একটি ক্লাসরুম, অথচ চলছে একাধিক ব্যাচ। অপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়ানো হচ্ছে না। এভাবে অপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, “পর্যাপ্ত রুমের অভাবে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ক্লাস বাতিল করতে হয়, যা আমাদের মানসিক ও শিক্ষাগত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “রুম সংকটের কারণে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রপার ডেলিভারি দিতে পারছি না। একটি কোর্সে ৩০-৩৫টি লেকচার থাকার কথা থাকলেও সংকটের কারণে তা সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “এখানে সমস্যা প্রকট। বিগত সময়ে এই দিকে নজর দেওয়া উচিত ছিল। অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের এই মৌলিক সমস্যার দিকে নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি এবং একটি ভবনের জন্য আবেদন পাঠিয়েছি। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।”

শ্রেণিকক্ষ সংকটের এই স্থায়ী সমাধান না হলে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

blank

নওগাঁয় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪২ লিটার চোলাই মদসহ দুই মহিলা গ্রেফতার

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট চরমে: করিডোর ও গাছের নিচেই চলছে পাঠদান‎

প্রকাশের সময় : ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
blank

নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলেও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধায় অনেক কলেজের চেয়েও পিছিয়ে আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন পার করছেন শিক্ষার্থীরা। রুম না পেয়ে মাঝেমধ্যেই শিক্ষার্থীদের করিডোর, ছয়দফা চত্বর কিংবা গাছের নিচে ক্লাস করতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

বাস্তব চিত্র ও সাম্প্রতিক ঘটনা: গত ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলামকে ক্লাস নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে অবকাঠামো সংকট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর আগেও কক্ষ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়দফা চত্বর ও গাছতলায় ক্লাস করার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যান ও ভয়াবহতা: বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫টি বিভাগের ১২৫টিরও বেশি ব্যাচের জন্য ক্লাসরুম রয়েছে মাত্র ৩৬টি। অনেক বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র একটি রুম। ফলে একই সময়ে একাধিক ব্যাচের ক্লাস থাকলে শুরু হয় বিপত্তি। রুম খালি হওয়ার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্বেগ: রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অলিভ খান বলেন, “একটি বিভাগের জন্য মাত্র একটি ক্লাসরুম, অথচ চলছে একাধিক ব্যাচ। অপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাড়ানো হচ্ছে না। এভাবে অপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”

ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, “পর্যাপ্ত রুমের অভাবে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ক্লাস বাতিল করতে হয়, যা আমাদের মানসিক ও শিক্ষাগত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

সহকারী অধ্যাপক মো. সানবিন ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “রুম সংকটের কারণে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রপার ডেলিভারি দিতে পারছি না। একটি কোর্সে ৩০-৩৫টি লেকচার থাকার কথা থাকলেও সংকটের কারণে তা সম্ভব হয় না। এতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “এখানে সমস্যা প্রকট। বিগত সময়ে এই দিকে নজর দেওয়া উচিত ছিল। অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের এই মৌলিক সমস্যার দিকে নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি এবং একটি ভবনের জন্য আবেদন পাঠিয়েছি। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।”

শ্রেণিকক্ষ সংকটের এই স্থায়ী সমাধান না হলে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।