ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নদী রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

blank

বাংলাদেশের নদী রক্ষায় সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট অঙ্গীকারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন। জাতীয় নদী কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগত সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

 

গত ১ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় নদী কনভেনশন -২০২৫’৷

blank

“নদী রক্ষায় চাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার সাদত। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কনভেনশনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার আমিনুল হক টুটুল ও আয়োজনের সমন্বয়ক মোঃ ইকরাম ইলাহী খান সাজ। জাতীয় কনভেনশনে ৯ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আনোয়ার হোসেন।

blank

 

প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের লিখিত স্বাগত বক্তব্য পাঠান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ জীব-বৈচিত্ৰ ভারসাম্য রক্ষা এবং নদ-নদীকে দখল-দূষণ থেকে রক্ষার জন্য ‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যে কাজগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর করার কথা ছিল, তা করছে ‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ নামের সংগঠনটি।

 

দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

blank

তিনি বলেন, ‘নদী রক্ষার কাজ কোনো একক সরকারের নয়, এটি জাতীয় ইস্যু। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের মাধ্যমে নদী রক্ষার জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। ‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ ২০০৫ সাল থেকে নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও শ্লোগান নিয়ে সারাদেশে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে “নদী রক্ষা দিবস” পালনের পাশপাশি নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ইত্যাদি করে যাচ্ছে। আমি তাদের সকল কর্মসূচীর সাথে একমত পোষণ করছি।

 

বাংলাদেশ নদী বাচাঁও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বহী সদস্য নাটোরের মোঃ সিরাজুল ইসলাম নান্নু বলেন, চলনবিলের নদী-নালা বিশেষ করে নারদ নদ, নন্দকুজা ও বড়াল নদী সহ সারা দেশের নদী-নালা রক্ষায় আমাদের আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের নদী রক্ষায় এখন রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ও তার বাস্তবায়ন বেশি প্রয়োজন।

blank

দুই পর্বে বিভক্ত এ কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নদী বিশেষজ্ঞ, নদী গবেষক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সংগঠন, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

 

বক্তারা বলেন, নদী রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই বাংলাদেশের নদী সংকটের মূল কারণ। অমাদের অর্থনীতি, শিল্পসহ সব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গেই নদীকে বাঁচাতে হবে। নদী দখল ও দূষণ রোধে জাতীয় কমিশন গঠন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীভিত্তিক অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের কার্যক্রম আরো জোরদার করে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

blank

কনভেনশনে আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শামীস কায়সার লিংকন, সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান, এনসিপির যুবশক্তির সদস্যসচিব ডা.জাহেদুল ইসলাম, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, কোষ্টাল জার্নালিষ্ট এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যন মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী ড. মোঃ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট এনজিও বিশেষজ্ঞ ড. খন্দকার নাজমুল হক, আইএলও কনসালটেন্ট ড. মুসলেহ উদ্দীন সাদেক, রিভার রিসার্স ইনসটিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক মোঃ সাজেদুর রহমান সরদার প্রমুখ।

blank

 

জাতীয় নদী কনভেনশনে আগত অতিথি ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ নদী রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে নদী রক্ষার ঘোষণা দেয়ার জন্য এই কনভেনশনে জোর দাবী জানানো হয়।

blank

ঢাকায় কলাপাড়াবাসীর মিলনমেলা: মোশাররফ হোসেন এমপিকে সংবর্ধনা

নদী রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

প্রকাশের সময় : ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
blank

বাংলাদেশের নদী রক্ষায় সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট অঙ্গীকারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন। জাতীয় নদী কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগত সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

 

গত ১ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ‘জাতীয় নদী কনভেনশন -২০২৫’৷

blank

“নদী রক্ষায় চাই রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ কনভেনশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার সাদত। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কনভেনশনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার আমিনুল হক টুটুল ও আয়োজনের সমন্বয়ক মোঃ ইকরাম ইলাহী খান সাজ। জাতীয় কনভেনশনে ৯ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ আনোয়ার হোসেন।

blank

 

প্রথম অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ড. সৈয়দ আবদুল্লাহ্ মোহাম্মদ তাহের লিখিত স্বাগত বক্তব্য পাঠান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ জীব-বৈচিত্ৰ ভারসাম্য রক্ষা এবং নদ-নদীকে দখল-দূষণ থেকে রক্ষার জন্য ‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যে কাজগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর করার কথা ছিল, তা করছে ‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ নামের সংগঠনটি।

 

দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

blank

তিনি বলেন, ‘নদী রক্ষার কাজ কোনো একক সরকারের নয়, এটি জাতীয় ইস্যু। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের মাধ্যমে নদী রক্ষার জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। ‘বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন’ ২০০৫ সাল থেকে নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও শ্লোগান নিয়ে সারাদেশে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয়ভাবে “নদী রক্ষা দিবস” পালনের পাশপাশি নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষায় মানববন্ধন, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক ইত্যাদি করে যাচ্ছে। আমি তাদের সকল কর্মসূচীর সাথে একমত পোষণ করছি।

 

বাংলাদেশ নদী বাচাঁও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বহী সদস্য নাটোরের মোঃ সিরাজুল ইসলাম নান্নু বলেন, চলনবিলের নদী-নালা বিশেষ করে নারদ নদ, নন্দকুজা ও বড়াল নদী সহ সারা দেশের নদী-নালা রক্ষায় আমাদের আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের নদী রক্ষায় এখন রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ও তার বাস্তবায়ন বেশি প্রয়োজন।

blank

দুই পর্বে বিভক্ত এ কনভেনশনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নদী বিশেষজ্ঞ, নদী গবেষক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সংগঠন, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

 

বক্তারা বলেন, নদী রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই বাংলাদেশের নদী সংকটের মূল কারণ। অমাদের অর্থনীতি, শিল্পসহ সব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গেই নদীকে বাঁচাতে হবে। নদী দখল ও দূষণ রোধে জাতীয় কমিশন গঠন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীভিত্তিক অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের কার্যক্রম আরো জোরদার করে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

blank

কনভেনশনে আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শামীস কায়সার লিংকন, সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান, এনসিপির যুবশক্তির সদস্যসচিব ডা.জাহেদুল ইসলাম, জেএসডির শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, কোষ্টাল জার্নালিষ্ট এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যন মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী ড. মোঃ লুৎফর রহমান, বিশিষ্ট এনজিও বিশেষজ্ঞ ড. খন্দকার নাজমুল হক, আইএলও কনসালটেন্ট ড. মুসলেহ উদ্দীন সাদেক, রিভার রিসার্স ইনসটিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক মোঃ সাজেদুর রহমান সরদার প্রমুখ।

blank

 

জাতীয় নদী কনভেনশনে আগত অতিথি ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ নদী রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইশতেহারে নদী রক্ষার ঘোষণা দেয়ার জন্য এই কনভেনশনে জোর দাবী জানানো হয়।