ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসেই ৫২ জনের মন্ত্রিসভা, বাড়ছে সরকার নিয়ে সমালোচনা

blank

সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা।

গত শুক্রবার বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। নতুন চার মন্ত্রী হলেন—আব্দুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিব রহমান পার্থ। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)।

নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি কয়েকটি মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল মঈন খান। রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে দেওয়া হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আর বিজেপি চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থকে দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন শামীম কায়সার।

অন্যদিকে উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির। এর ফলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করে। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৬ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এসেছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দুজন মন্ত্রিত্ব ছাড়েন, একজন নতুন করে মন্ত্রিত্ব পান। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।

নতুন করে ছয়জন যুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৫২। তবে ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় মোট ৫৬ জন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ নিয়ে সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ছোট ও কার্যকর সরকার গঠনের কথা বললেও বর্তমানে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, সরকার যত ছোট হবে, কার্যক্রম তত বেশি কার্যকর হওয়ার সুযোগ থাকে।

অতীতের মন্ত্রিসভার হিসাবও দেখাচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারের আকার আরও বড় হয়েছে। খালেদা জিয়ার ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ ৬০ জন দায়িত্ব পালন করেন। আর শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬১ জন দায়িত্ব পালন করেন। উপদেষ্টা ও একই পদমর্যাদার ব্যক্তিদের হিসাব করলে সংখ্যাটি আরও বেশি হয়।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ছয় মাসের মধ্যেই ৫৬ জনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারের কার্যকারিতা বাড়াতে মন্ত্রিসভার আকার কতটা রাখা উচিত—সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

জনপ্রিয় খবর

ছয় মাসেই ৫২ জনের মন্ত্রিসভা, বাড়ছে সরকার নিয়ে সমালোচনা

প্রকাশের সময় : ১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
blank

সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুইজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ায় বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা।

গত শুক্রবার বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। নতুন চার মন্ত্রী হলেন—আব্দুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিব রহমান পার্থ। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)।

নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি কয়েকটি মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল মঈন খান। রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে দেওয়া হয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আর বিজেপি চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থকে দেওয়া হয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন শামীম কায়সার।

অন্যদিকে উপদেষ্টা থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির। এর ফলে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা যাত্রা শুরু করে। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ ২৬ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এসেছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়ে দুজন মন্ত্রিত্ব ছাড়েন, একজন নতুন করে মন্ত্রিত্ব পান। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিত্ব ছাড়েন।

নতুন করে ছয়জন যুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা এখন ৫২। তবে ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভায় মোট ৫৬ জন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ নিয়ে সুশাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ছোট ও কার্যকর সরকার গঠনের কথা বললেও বর্তমানে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, সরকার যত ছোট হবে, কার্যক্রম তত বেশি কার্যকর হওয়ার সুযোগ থাকে।

অতীতের মন্ত্রিসভার হিসাবও দেখাচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে সরকারের আকার আরও বড় হয়েছে। খালেদা জিয়ার ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ ৬০ জন দায়িত্ব পালন করেন। আর শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৬১ জন দায়িত্ব পালন করেন। উপদেষ্টা ও একই পদমর্যাদার ব্যক্তিদের হিসাব করলে সংখ্যাটি আরও বেশি হয়।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ছয় মাসের মধ্যেই ৫৬ জনের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তাই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারের কার্যকারিতা বাড়াতে মন্ত্রিসভার আকার কতটা রাখা উচিত—সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।