ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ২০০ স্থাপনা

blank

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, থানা-পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে নির্মিত অবৈধ দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করতে চালক ও মালিক সমিতির নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম, কেরানিহাট ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মাহাবুবসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী-বান্দরবান সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি বলেন, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা এবং দোকানপাট গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, মহাসড়কের যেসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছিল এবং দখলের কারণে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাতে আবার আগের মতো অবৈধ দোকানপাট বসানো না হয়, সে বিষয়ে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের উদ্যোগের ফলে আগের বছরের তুলনায় অবৈধ দোকানপাট পুনরায় বসানোর প্রবণতা কমবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বান্দরবান বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সড়ক নিরাপদ রাখা এবং যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, দোকানপাট উচ্ছেদের ফলে তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

হকার রিদুয়ান বলেন, ছোট ছোট দোকান উচ্ছেদ করায় তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এসব দোকানই ছিল তাঁদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেন তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মস্থলের ব্যবস্থা করে এবং নতুনভাবে জীবিকা শুরু করতে সহযোগিতা করে।

জনপ্রিয় খবর
blank

বড়াইগ্রামে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক মোল্লাকে থানায় হস্তান্তর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান, উচ্ছেদ ২০০ স্থাপনা

প্রকাশের সময় : ৪ ঘন্টা আগে
blank

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, থানা-পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে নির্মিত অবৈধ দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করতে চালক ও মালিক সমিতির নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম, কেরানিহাট ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মাহাবুবসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী-বান্দরবান সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি বলেন, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা এবং দোকানপাট গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করা এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, মহাসড়কের যেসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছিল এবং দখলের কারণে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল, সেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাতে আবার আগের মতো অবৈধ দোকানপাট বসানো না হয়, সে বিষয়ে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের উদ্যোগের ফলে আগের বছরের তুলনায় অবৈধ দোকানপাট পুনরায় বসানোর প্রবণতা কমবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বান্দরবান বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সড়ক নিরাপদ রাখা এবং যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি, দোকানপাট উচ্ছেদের ফলে তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

হকার রিদুয়ান বলেন, ছোট ছোট দোকান উচ্ছেদ করায় তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এসব দোকানই ছিল তাঁদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেন তাঁদের জন্য বিকল্প কর্মস্থলের ব্যবস্থা করে এবং নতুনভাবে জীবিকা শুরু করতে সহযোগিতা করে।