নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তাকে ধাওয়া করে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় শাকিল ইসলাম চাঁচকৈড় বাজারে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শাকিল দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় তারা।
পরে স্থানীয় লোকজন শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, কারা এবং কী কারণে শাকিল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে শাকিলকে দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। এ সময় তিনি হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রকাশ্য বাজার এলাকায় গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে হামলার কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 


















