ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর মিলিনিয়াম সিটির সামনে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে ঘাটারচর এলাকা থেকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান চুরি হয়। পরে সেটি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার সকালে কাভার্ড ভ্যানের চালক শাহ আলম মৃধাকে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে শতাধিক গাড়িচালক এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ওসি রুহুল কুদ্দুসসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, চুরির ঘটনার জন্য প্রমাণ ছাড়াই চালক শাহ আলমকে দায়ী করে নির্যাতন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
আহত শাহ আলমের স্ত্রী ময়না আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তাঁর পায়ের নখ তুলে ফেলা এবং অ্যাসিড মিশ্রিত পানি খাওয়ানোর চেষ্টাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের উপমহাব্যবস্থাপক (এডমিন) কাজল সুপিয়র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কয়েকদিন ধরে একটি চক্র প্রতিষ্ঠানটির কাছে চাঁদা দাবি করছিল। তাঁদের ধারণা, চালক শাহ আলম ওই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান। তিনি দাবি করেন, শাহ আলমকে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, কাভার্ড ভ্যান চুরিকে কেন্দ্র করে মালিকপক্ষ ও চালকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

অনলাইন ডেস্ক 


















