ঢাকা শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যের টানে বোঁথড়ে পুণ্যার্থীদের ঢল: চাটমোহরে শুরু হলো শতবর্ষী চড়ক মেলা

blank

পাবনার চাটমোহর পৌর শহরের অদূরে বোঁথড় গ্রামে শুরু হয়েছে কয়েক শ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা। প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবে এবারও ঢল নেমেছে দেশ-বিদেশের হাজারো পুণ্যার্থীর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে এই মেলা এখন ওই অঞ্চলের প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ‘চড়ক গাছ’ সোমবার  মন্দিরের পাশের পুকুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে মন্দিরে মহাদেবের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মূল পূজা, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এখন সাজ সাজ রব; আত্মীয়-স্বজন আর অতিথিদের আপ্যায়নে মুখরিত প্রতিটি গ্রাম।

blank

এই মেলার সঠিক সূচনাকাল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও এর প্রাচীনত্ব নিয়ে কারোরই সংশয় নেই। প্রবীণদের মতে, এই উৎসবের শিকড় সিন্ধু সভ্যতায় প্রোথিত। আবার অনেকে মনে করেন, পৌরাণিক ‘বান রাজা’র আমল থেকে এই পূজার শুরু। একসময় বৈশাখ মাসজুড়ে চলা এই মেলায় যাত্রা, সার্কাস, নাগরদোলা আর পুতুল নাচের যে জৌলুস ছিল, কালের বিবর্তনে তা কিছুটা স্তিমিত হলেও এর আধ্যাত্মিক টান কমেনি এতটুকু।

স্থানীয় বাসিন্দা রনি রায়  জানান, মনের বাসনা পূরণ ও মানত করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে ছুটে আসেন। কেউ পাঁঠাবলি দেন, কেউবা কবুতর উৎসর্গ করেন। ভক্তিভরে পূজার অর্ঘ্য মাথায় নিয়ে মন্দিরের চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন শত শত পুণ্যার্থী। এই কয়েক দিন চাটমোহর এলাকা এক আনন্দঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়।

বোঁথড় মহাদেভ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর কুমার সাহা জানান, কয়েক শ বছরের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আগমন ও মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 কালের পরিক্রমায় জৌলুস কিছুটা কমলেও চড়ক গাছ, পাঠ ঠাকুর ও বিগ্রহ মন্দিরকে কেন্দ্র করে আজও স্বমহিমায় টিকে আছে বোঁথড় গ্রামের এই প্রাচীন উৎসব। এটি কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং চাটমোহরের লোকজ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

blank

বিশ্ব বদলানো ১০০ মুখ: প্রকাশ পেল ‘টাইম ১০০’ তালিকা

ঐতিহ্যের টানে বোঁথড়ে পুণ্যার্থীদের ঢল: চাটমোহরে শুরু হলো শতবর্ষী চড়ক মেলা

প্রকাশের সময় : ০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
blank

পাবনার চাটমোহর পৌর শহরের অদূরে বোঁথড় গ্রামে শুরু হয়েছে কয়েক শ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা। প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবে এবারও ঢল নেমেছে দেশ-বিদেশের হাজারো পুণ্যার্থীর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে এই মেলা এখন ওই অঞ্চলের প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।

উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ‘চড়ক গাছ’ সোমবার  মন্দিরের পাশের পুকুর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে মন্দিরে মহাদেবের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে মূল পূজা, যা মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে এখন সাজ সাজ রব; আত্মীয়-স্বজন আর অতিথিদের আপ্যায়নে মুখরিত প্রতিটি গ্রাম।

blank

এই মেলার সঠিক সূচনাকাল নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকলেও এর প্রাচীনত্ব নিয়ে কারোরই সংশয় নেই। প্রবীণদের মতে, এই উৎসবের শিকড় সিন্ধু সভ্যতায় প্রোথিত। আবার অনেকে মনে করেন, পৌরাণিক ‘বান রাজা’র আমল থেকে এই পূজার শুরু। একসময় বৈশাখ মাসজুড়ে চলা এই মেলায় যাত্রা, সার্কাস, নাগরদোলা আর পুতুল নাচের যে জৌলুস ছিল, কালের বিবর্তনে তা কিছুটা স্তিমিত হলেও এর আধ্যাত্মিক টান কমেনি এতটুকু।

স্থানীয় বাসিন্দা রনি রায়  জানান, মনের বাসনা পূরণ ও মানত করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে ছুটে আসেন। কেউ পাঁঠাবলি দেন, কেউবা কবুতর উৎসর্গ করেন। ভক্তিভরে পূজার অর্ঘ্য মাথায় নিয়ে মন্দিরের চারপাশ প্রদক্ষিণ করেন শত শত পুণ্যার্থী। এই কয়েক দিন চাটমোহর এলাকা এক আনন্দঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়।

বোঁথড় মহাদেভ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর কুমার সাহা জানান, কয়েক শ বছরের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আগমন ও মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 কালের পরিক্রমায় জৌলুস কিছুটা কমলেও চড়ক গাছ, পাঠ ঠাকুর ও বিগ্রহ মন্দিরকে কেন্দ্র করে আজও স্বমহিমায় টিকে আছে বোঁথড় গ্রামের এই প্রাচীন উৎসব। এটি কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং চাটমোহরের লোকজ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।