ঢাকা সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর স্থানান্তরের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

blank

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করছেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

হরতালের প্রভাবে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।

হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় সড়কে আটকা থাকে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটক হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শাহাদাত হোসাইন অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে উপজেলা সদর ভুজপুর মৌজায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উপজেলার নাম যেহেতু ফটিকছড়ি উত্তর, তাই সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলের সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

আরেক আন্দোলনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজ করা। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে একই এলাকার কাছাকাছি দুটি উপজেলা সদর হওয়ায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই জনগণের স্বার্থে সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

জনপ্রিয় খবর
blank

প্রথমবার ২৬ দেশের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে ‘প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ’ আর্চারি

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর স্থানান্তরের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

প্রকাশের সময় : ১৪ ঘন্টা আগে
blank

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করছেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

হরতালের প্রভাবে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ফটিকছড়ি অংশে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, ফার্মেসি, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।

হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ সময় সড়কে আটকা থাকে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীরা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটক হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শাহাদাত হোসাইন অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে উপজেলা সদর ভুজপুর মৌজায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, উপজেলার নাম যেহেতু ফটিকছড়ি উত্তর, তাই সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলের সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর হবে।

আরেক আন্দোলনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সেবা সহজ করা। কিন্তু বর্তমান সিদ্ধান্তে একই এলাকার কাছাকাছি দুটি উপজেলা সদর হওয়ায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই জনগণের স্বার্থে সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।