দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলার বিচার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং দেশজুড়ে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার পর আগামী রোববার থেকে এই আইনি কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন আদালত।
২০২০ সালে শুরু হওয়া এই মামলায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ এবং জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আদালতের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও ২০১৯ সালে অভিযোগ গঠন হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
আদালতের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার হওয়ায় বিচার বিভাগ এখন পূর্ণোদ্যমে সচল। ফলে রোববার থেকে বুধবারের মধ্যে যেকোনো দিন প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালালে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে তেহরান। দুই সপ্তাহের চরম উত্তেজনার পর গত বুধবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। ফলে তেল আবিবসহ প্রধান শহরগুলোতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলেও লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে আসছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে নেতানিয়াহুকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















