যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এবিসি নিউজের সাংবাদিক জনাথন কার্ল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে প্রেসিডেন্টের এই অনড় অবস্থানের কথা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আর কোনো প্রয়োজন নেই। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বিশ্ববাসী ‘অবিশ্বাস্য’ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, “আমার মনে হয় আপনারা সামনে অত্যন্ত বিস্ময়কর দুই দিন দেখতে চলেছেন। আমি সত্যিই এটি বিশ্বাস করি।”
জনাথন কার্লের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই সংঘাতের সমাপ্তি কেবল দুটি পথেই সম্ভব— হয় আলোচনার মাধ্যমে কোনো স্থায়ী চুক্তি, অন্যথায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া।
তবে ট্রাম্প একটি চুক্তির ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি যেকোনোভাবেই শেষ হতে পারে, তবে চুক্তি হওয়াটাই শ্রেয়; কারণ এতে তারা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।” বর্তমান ইরান সরকার আগের চেয়ে ভিন্ন দাবি করে তিনি আরও বলেন, “যাই ঘটুক না কেন, আমরা কট্টরপন্থিদের হটিয়ে দিয়েছি। তারা এখন আর আমাদের সামনে কোনো বাধা নয়।”
বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প একটি সাহসী দাবি করেছেন। জনাথন কার্লকে তিনি বলেন, “আমি যদি প্রেসিডেন্ট না থাকতাম, তবে পুরো পৃথিবী এতক্ষণে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান মূলত তেহরানকে একটি বড় ধরনের চুক্তিতে বাধ্য করার কৌশল। বিশেষ করে যখন ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, তখন ট্রাম্পের এই ‘দুই দিনের’ সময়সীমা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই ‘বিস্ময়কর দুই দিন’ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ দেখায় নাকি নতুন কোনো ভয়াবহ সংঘাতের সূচনা করে।

অনলাইন ডেস্ক 



















