ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধের নির্দেশ নিরাপত্তা পরিষদের

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • 109
blank

 মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে ইরানকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব (রেজল্যুশন) পাস হয়।

 নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতাই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের জন্য তেহরানকে আহ্বান জানিয়েছে।

১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটিতে ১৩টি রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিলেও ২টি রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল।

 ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে।

 হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল ডিপোগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ ৬টি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তু।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এমনকি সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় খবর
blank

কলাপাড়ায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বুলিং, কোচিং বাণিজ্য এবং পাঠদানে অবহেলার অভিযোগ।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা বন্ধের নির্দেশ নিরাপত্তা পরিষদের

প্রকাশের সময় : ০১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
blank

 মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে ইরানকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব (রেজল্যুশন) পাস হয়।

 নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতাই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের জন্য তেহরানকে আহ্বান জানিয়েছে।

১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটিতে ১৩টি রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিলেও ২টি রাষ্ট্র ভোটদান থেকে বিরত ছিল।

 ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই সংলাপ শেষ হয়। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে।

 হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল ডিপোগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ ৬টি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তু।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এমনকি সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।