ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মক্কা-মদিনা বাদে সৌদির সব বিমানবন্দরই হামলার টার্গেট হুথিদের

blank

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, রিয়াদের পাশাপাশি পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হুথি মুখপাত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের ভেতরে তাঁদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারের হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরের একটি যাত্রী হলে আগুন ধরে যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৪ নম্বর যাত্রী হলে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগের হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবনে এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এ হামলার খবর নিশ্চিত করেনি এবং বিবিসিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে।

মক্কা-মদিনা বাদে সৌদির সব বিমানবন্দরই হামলার টার্গেট হুথিদের

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, রিয়াদের পাশাপাশি পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হুথি মুখপাত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের ভেতরে তাঁদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির অন্য বিমানবন্দরগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারের হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরের একটি যাত্রী হলে আগুন ধরে যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৪ নম্বর যাত্রী হলে আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগের হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এক মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে, হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় একটি আবাসিক ভবনে এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এ হামলার খবর নিশ্চিত করেনি এবং বিবিসিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে।