ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সালথায় আষাঢ়ের বিলে জমজমাট নৌকা বাইচ, হাজারো দর্শনার্থীর উচ্ছ্বাস

blank

বিলের পানিতে সারি সারি নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টান আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের সালথার আষাঢ়ের বিল। দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর আয়োজনে ফিরে এলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনকে ঘিরে বিলের দুই পাড়ে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে ছুটে আসেন।

বাইচ শুরু হওয়ার পর মাঝিদের বৈঠার তালে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে প্রতিযোগিতার নৌকা। নৌকা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও মাঝিদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলাও। মেলায় বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ পণ্য, খাবার, খেলনা ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর দোকান বসে। শিশুদের জন্যও ছিল নানা বিনোদনের আয়োজন। ফলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরেও মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ব্যাপক সমাগম হওয়ায় মেলায় বেচাকেনাও বেশ ভালো হয়েছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার কারণে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজন একদিকে মানুষকে বিনোদন দেয়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনও দৃঢ় করে।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনের বাইরে এমন আয়োজন তাদের শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। নৌকার ছুটে চলা, বৈঠার ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে ফিরে আসে গ্রামবাংলার পুরোনো দিনের সেই চেনা পরিবেশ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

বিলের পানিতে বৈঠার ছন্দ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর গ্রামীণ মেলার আমেজে এদিন আষাঢ়ের বিল যেন ফিরে পেয়েছিল তার পুরোনো প্রাণ। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে আনন্দ ও স্মৃতিময় এক বিকেল।

জনপ্রিয় খবর
blank

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৩ হাজার মানুষ, নতুন দুর্যোগের শঙ্কা

সালথায় আষাঢ়ের বিলে জমজমাট নৌকা বাইচ, হাজারো দর্শনার্থীর উচ্ছ্বাস

প্রকাশের সময় : এক ঘন্টা আগে
blank

বিলের পানিতে সারি সারি নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টান আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠেছিল ফরিদপুরের সালথার আষাঢ়ের বিল। দীর্ঘদিন পর এমন উৎসবমুখর আয়োজনে ফিরে এলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনকে ঘিরে বিলের দুই পাড়ে সকাল থেকেই মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে ছুটে আসেন।

বাইচ শুরু হওয়ার পর মাঝিদের বৈঠার তালে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে প্রতিযোগিতার নৌকা। নৌকা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও মাঝিদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন, আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রতিযোগিতা।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বিলের পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলাও। মেলায় বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ পণ্য, খাবার, খেলনা ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর দোকান বসে। শিশুদের জন্যও ছিল নানা বিনোদনের আয়োজন। ফলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরেও মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ব্যাপক সমাগম হওয়ায় মেলায় বেচাকেনাও বেশ ভালো হয়েছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার কারণে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। নৌকা বাইচের মতো আয়োজন একদিকে মানুষকে বিনোদন দেয়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে দেশের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনও দৃঢ় করে।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনের বাইরে এমন আয়োজন তাদের শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। নৌকার ছুটে চলা, বৈঠার ছন্দ আর মানুষের উচ্ছ্বাসে ফিরে আসে গ্রামবাংলার পুরোনো দিনের সেই চেনা পরিবেশ।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

বিলের পানিতে বৈঠার ছন্দ, মানুষের উচ্ছ্বাস আর গ্রামীণ মেলার আমেজে এদিন আষাঢ়ের বিল যেন ফিরে পেয়েছিল তার পুরোনো প্রাণ। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে ওঠে আনন্দ ও স্মৃতিময় এক বিকেল।