ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপকথা ফেরাতে গাঢ় নীল জার্সিতে নামছে আর্জেন্টিনা

blank

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার জার্সি নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এবার তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা স্ট্রাইপ জার্সির বদলে গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে কিট পরে খেলবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, স্বাগতিক বা ‘হোম’ দল হিসেবে ইংল্যান্ড মাঠে নামবে তাদের পরিচিত সাদা জার্সিতে।

এ বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও দেশটির ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশেষ এই জার্সি পরার অনুরোধ আর্জেন্টিনাই ফিফার কাছে জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যের বিশ্বাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই নীল জার্সি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দুটি স্মরণীয় জয় এসেছিল এই জার্সি পরেই।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা নীল জার্সি গায়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন। সেই ম্যাচটি এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক লড়াই হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও একই নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং নাটকীয় সমাপ্তি আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।

তবে শুধু কুসংস্কার নয়, ফিফার জার্সি সংক্রান্ত নিয়মও এই সিদ্ধান্তের একটি কারণ। দুই দলের জার্সির রঙে পর্যাপ্ত পার্থক্য না থাকলে দর্শকদের, বিশেষ করে বর্ণান্ধ ব্যক্তিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে একটি দলকে বিকল্প জার্সি পরতে হয়।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত মাত্র একবার নীল অ্যাওয়ে জার্সি ব্যবহার করেছে। গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তারা ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। অন্য সব ম্যাচেই লিওনেল স্কালোনির দল খেলেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সিতে।

অবশ্য নীল জার্সির সঙ্গে আর্জেন্টিনার সব স্মৃতিই সুখকর নয়। ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই জার্সি পরেই জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল তারা। বিপরীতে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের সময় লিওনেল মেসিদের গায়ে ছিল পরিচিত আকাশি-সাদা স্ট্রাইপ জার্সি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই দলের সর্বশেষ বড় লড়াই হয়েছিল ২০০২ সালের বিশ্বকাপে। সেবার আর্জেন্টিনা হোম জার্সি এবং ইংল্যান্ড লাল জার্সি পরে মাঠে নামে। ডেভিড বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা।

দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তখনও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল নীল অ্যাওয়ে জার্সি। তবে সে ম্যাচে খেলেননি লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।

ফলে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালই হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। আর সেই ম্যাচে ইতিহাসের স্মৃতি ফিরিয়ে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে আবারও নীল জার্সিতেই মাঠে নামতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

জনপ্রিয় খবর
blank

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে মৌলভীবাজারে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রূপকথা ফেরাতে গাঢ় নীল জার্সিতে নামছে আর্জেন্টিনা

প্রকাশের সময় : ১১ ঘন্টা আগে
blank

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার জার্সি নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এবার তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা স্ট্রাইপ জার্সির বদলে গাঢ় নীল রঙের অ্যাওয়ে কিট পরে খেলবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, স্বাগতিক বা ‘হোম’ দল হিসেবে ইংল্যান্ড মাঠে নামবে তাদের পরিচিত সাদা জার্সিতে।

এ বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও দেশটির ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশেষ এই জার্সি পরার অনুরোধ আর্জেন্টিনাই ফিফার কাছে জানিয়েছে।

আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যের বিশ্বাসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই নীল জার্সি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দুটি স্মরণীয় জয় এসেছিল এই জার্সি পরেই।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা নীল জার্সি গায়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়েছিলেন। সেই ম্যাচটি এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক লড়াই হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও একই নীল জার্সি পরে ইংল্যান্ডকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড এবং নাটকীয় সমাপ্তি আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।

তবে শুধু কুসংস্কার নয়, ফিফার জার্সি সংক্রান্ত নিয়মও এই সিদ্ধান্তের একটি কারণ। দুই দলের জার্সির রঙে পর্যাপ্ত পার্থক্য না থাকলে দর্শকদের, বিশেষ করে বর্ণান্ধ ব্যক্তিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে একটি দলকে বিকল্প জার্সি পরতে হয়।

চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত মাত্র একবার নীল অ্যাওয়ে জার্সি ব্যবহার করেছে। গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তারা ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। অন্য সব ম্যাচেই লিওনেল স্কালোনির দল খেলেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সিতে।

অবশ্য নীল জার্সির সঙ্গে আর্জেন্টিনার সব স্মৃতিই সুখকর নয়। ১৯৯০ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই জার্সি পরেই জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল তারা। বিপরীতে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের সময় লিওনেল মেসিদের গায়ে ছিল পরিচিত আকাশি-সাদা স্ট্রাইপ জার্সি।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই দলের সর্বশেষ বড় লড়াই হয়েছিল ২০০২ সালের বিশ্বকাপে। সেবার আর্জেন্টিনা হোম জার্সি এবং ইংল্যান্ড লাল জার্সি পরে মাঠে নামে। ডেভিড বেকহ্যামের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংলিশরা।

দুই দলের সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৫ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে। সেই ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তখনও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল নীল অ্যাওয়ে জার্সি। তবে সে ম্যাচে খেলেননি লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।

ফলে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সেমিফাইনালই হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। আর সেই ম্যাচে ইতিহাসের স্মৃতি ফিরিয়ে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে আবারও নীল জার্সিতেই মাঠে নামতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।