নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে আহত করার অভিযোগে চাচি লতা বেগমকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত চাচি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলাটি করেন। নির্যাতনের শিকার শিশুটির নাম রিজিক। সে মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চাঁনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল হক জহির ও সাইফা বেগম দম্পতির সন্তান।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে শিশুটির চাচি লতা বেগম, চাচা কাউছার আহম্মেদ এবং দাদা আলমাছ মিয়াকে। তারা একই এলাকার পাইকারদী গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই লতা বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই চাচা ও দাদাকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত চাচিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটির পা ভাঙেনি। তবে ভিডিওতে শিশুর সঙ্গে অভিযুক্তের আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, জন্মের পর থেকেই অসুস্থ থাকায় শিশু রিজিক দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ কারণে তার মা সাইফা আক্তার পারিবারিক কাজে অংশ নিতে না পারায় চাচি লতা বেগম প্রায়ই তাকে বিভিন্নভাবে কটূক্তি করতেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গত শনিবার বিকেলে শিশুটিকে নিয়ে মা নিজ কক্ষে ছিলেন। ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে তিনি কৌশলে নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড চালু করে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে কক্ষে ঢুকে শিশুর পা জোরে মুচড়ে দেন লতা বেগম। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি শিশুটির মায়ের ফোন থেকে ভিডিও মুছে ফেলারও অভিযোগ ওঠে। তবে তার আগেই ভিডিওটি তিনি নিজের ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে রেখেছিলেন।
পরিবার শুরুতে বিষয়টিকে পারিবারিক ঘটনা উল্লেখ করে অভিযোগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এমনকি ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলেও দাবি করা হয় এবং অভিযুক্তকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
তবে গত ১৪ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর মামলা দায়ের করে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুর পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে ভিডিওতে শিশুর সঙ্গে যে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে, সেটির তদন্ত চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক 


















